ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের হরিদ্বার থেকে গঙ্গার পানি সংগ্রহ করে ফিরছেন কাঁওয়ারিরা। ২৩ জুলাই
ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের হরিদ্বার থেকে গঙ্গার পানি সংগ্রহ করে ফিরছেন কাঁওয়ারিরা। ২৩ জুলাই

কাঁওয়ার যাত্রা নিয়ে যে প্রশ্ন তুললেন পাকিস্তানি সাংবাদিক, কী বলছে ভারত

ভারতের হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব ‘কাঁওয়ার’ যাত্রাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জল ঘোলা করার অভিযোগ উঠেছে। ওই যাত্রাকে কেন্দ্র করে বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখন্ড সরকারের ফরমান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিমত কী, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অবশ্য জানিয়ে দেন রাজ্য সরকারের ওই নির্দেশ এখনো কার্যকর হয়নি।

প্রতিবছর শ্রাবণ মাসে ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা শিবের মাথায় জল ঢালেন। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর বাসিন্দারা সাধারণত সেই জল বাঁকে করে বয়ে আনেন গোমুখ, গঙ্গোত্রী কিংবা হরিদ্বারে প্রবাহিত গঙ্গা থেকে। তার পর পদব্রজে দীর্ঘ যাত্রা শেষে সেই জল ঢালা হয় বিভিন্ন এলাকার শিবমন্দিরে। এই ধর্মাচরণের নামই ‘কাঁওয়ার যাত্রা’। যাত্রীদের বলা হয় ‘কাঁওয়ারি’।

চলতি বছর এই যাত্রা শুরু হয়েছে ২২ জুলাই থেকে। চলবে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। এই যাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশ সরকারের এক নির্দেশ ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত।

সেই নির্দেশে বলা হয়, সরকারের নির্দিষ্ট করে দেওয়া যাত্রাপথের দুই ধারের খাবারের দোকানের মালিকদের দোকানের সাইনবোর্ডে নিজের নাম–ফোন নম্বর বড় ও স্পষ্ট করে লিখে রাখতে হবে। এই নির্দেশ ঘিরে প্রতিবাদ শুরু হয়।

বিরোধীরা তো বটেই, বিজেপির শরিক দল আরএলডি, জেডিইউ, নিষাদ পার্টি, আপনা দলের নেতারাও আপত্তি তোলেন। তা সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। অতঃপর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র ও বেশ কয়েকটি নাগরিক সংগঠন সর্বোচ্চ আদালতে জনস্বার্থ মামলা করেন।

২২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশিকায় সাময়িকভাবে স্থগিতাদেশ জারি করেন। উত্তর প্রদেশের মতো একই নির্দেশ জারি করেছিল উত্তরাখন্ড ও মধ্য প্রদেশের বিজেপিশাসিত সরকার। আগামীকাল শুক্রবার আদালতে তাঁদের অভিমত জানাতে বলা হয়েছে।

পাকিস্তানি সাংবাদিক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের রুলিংয়ের বিষয়টি ঊহ্য রেখে। মুখপাত্র ম্যাথু মিলারের কাছে তিনি জানতে চান, এই নির্দেশিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিমত কী।

জবাবে মিলার বলেন, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে অবহিত। তবে এটাও জানেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ওই নির্দেশিকার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। নির্দেশিকা কার্যকরই হয়নি। এরপর তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই ধর্মাচরণের স্বাধীনতার পক্ষে। পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় মানুষের বিশ্বাসের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল।

নির্দেশিকা নিয়ে উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এতে কাঁওয়ার যাত্রীদের পবিত্রতা রক্ষিত হবে। বিরোধীরা মনে করেন, ওই নির্দেশিকা মুসলমান ব্যবসায়ীদের বর্জনের শামিল। নির্দেশিকার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে বিচারপতিরা বলেছিলেন, ওই নির্দেশ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী।