
মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আজ শনিবার পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগের পরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সামলানোর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রহ্লাদ যোশীকে তাঁর বর্তমান দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
কর্ণাটকের ধারওয়াদ আসন থেকে নির্বাচিত লোকসভার সদস্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে ভোক্তা অধিকার, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয় এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগের মেয়াদে তিনি কয়লা, খনি ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
গত মে মাসের শেষ দিকে ভারতের নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তৎপরতা গতি পায়। জুনের শুরুর দিকে এ দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ভারতে ফিরে এসে যন্তর মন্তরের কাছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
পরীক্ষায় অনিয়মের দায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল আন্দোলনের মূল দাবি। ২৮ জুন শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও গতি পায়। তিনি ২৬ দিন অনশনের পর চলতি সপ্তাহে তা প্রত্যাহার করেন।
আন্দোলন দ্রুত ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রধান প্রধান শহরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার লিখিতভাবে আশ্বাস দেয়—শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়টি উত্থাপন করা হবে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সরকারের আশ্বাসে ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে সিজেপি। ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করা ও সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যান। আন্দোলনকারীদের অনমনীয় অবস্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন। পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।