
আফগানিস্তানে বিদেশি সেনা মোতায়েন শুরু হয় ২০০১ সালে। জার্মানিও সেনা পাঠায় তখন। কিন্তু ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক মিশন সেনা প্রত্যাহার শুরু করার পরই আফগানিস্তানের দখল নিয়ে নেয় তালেবান। জার্মান সেনাদেরও ফিরিয়ে আনা হয় দ্রুত। জার্মানির সেনাবাহিনী এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর হয়ে কাজ করা আফগানদের নিয়ে আসার উদ্যোগও শুরু হয় তখন।
গত জুনে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেজারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২০ হাজারের মতো আফগান নাগরিক জার্মানিতে এসেছেন। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে উন্নয়ন সংস্থা এবং জার্মান সেনাবাহিনীতে কাজ শুরু করছেন বলেও জানান তিনি।
কিন্তু যাঁরা সময়, সুযোগের অভাবে এখনো আফগানিস্তান ছাড়তে পারেননি, তাঁদের কী হবে? ২০২১ সালে জার্মানির তখনকার চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছিলেন, ‘আফগানদের, বিশেষ করে যে আফগানরা সেনাসদস্যদের সহায়তায় কাজ করেছেন, নানান সাহায্য সংস্থাকে সহায়তা করেছেন, যাঁরা পুলিশ বাহিনীতে কাজ করেছেন, তাঁদের আফগানিস্তান ছেড়ে আসতে সহায়তা করার এ উদ্যোগ চলতে থাকবে। যেসব মানুষ নিরাপদ এবং স্বাধীন ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা বজায় থাকবে।’
ওলাফ শলৎজের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেও তালেবানবিরোধী যুদ্ধে সহায়তাকারী অনেক আফগানকে জার্মানিতে নিয়ে আসার কাজ দ্রুত করা যায়নি। এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে জার্মানির কৌশলগত ভুলের কথাও উঠে আসছে। বলা হচ্ছে, তালেবানবিরোধী আফগানরা প্রথমে পাকিস্তান, ইরান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তানের মতো প্রতিবেশী বা কাছের দেশগুলোতে আশ্রয় নেবেন, সেখান থেকে পরে তাঁদের নিয়ে আসা হবে। জার্মানির এই পরিকল্পনাই ছিল ভুল। কারণ, জার্মানি চাইলেও ওই প্রতিবেশী দেশগুলো আফগান শরণার্থীদের নিতে চায়নি।
আফগানদের দ্রুত ও নিরাপদে নিয়ে আসার ব্যাপারে জার্মানির যে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না, তা কেন্দ্রীয় আর্থিক সহায়তা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ও (বিএমজেড) সম্প্রতি স্বীকার করেছে। তারা জানায়, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির অভাবের কারণে এত দিনে কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষকে বিএমজেডের উদ্যোগে জার্মানিতে নিয়ে আসার কথা থাকলেও আনা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৬০০ জনকে। বাকি ৩ হাজার ৪০০ জনের মধ্যে মাত্র ১৬০ জন প্রতিবেশী দেশে সাময়িক আশ্রয় পেয়েছেন।
এদিকে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে এখনো থেকে যাওয়া আফগানদের সহায়তার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে জার্মানি। তিনি জানান, এ সহায়তা পাবেন মূলত নারী বা ধর্ম কিংবা যৌন-বৈচিত্র্যের কারণে নির্যাতন ও হুমকির মুখে পড়া আফগানরা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অবশ্য এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি মনে করে, পাকিস্তান বা ইরান থেকে কেউ এ সহায়তা দাবি করতে পারবেন না, এর অর্থ হলো কিছু মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে আফগানিস্তানে থাকতে বাধ্য করা।