
গত বছরের শেষ দিকে ইয়েমেন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) কার্যত সরিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব। এখন রাজনৈতিক প্রভাব ও বিপুল অর্থ ব্যয় করে দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশটিকে আরও দৃঢ়ভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে রিয়াদ। ছয়জন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণভাবে এই পদক্ষেপকে দীর্ঘদিন অগ্রাধিকার দেওয়ার পর আঞ্চলিক পরিসরে রিয়াদের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এটি অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। ধনী উপসাগরীয় এই রাজতান্ত্রিক সরকার বিভক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গোত্রগুলোকে একত্রিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বিপুল অর্থ সহায়তার মাধ্যমে ভেঙে পড়া একটি রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখছে। উত্তর ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান অমীমাংসিত সংঘাত নাজুক যুদ্ধবিরতির কারণে আপাতত নিয়ন্ত্রিত থাকলেও একই সময়ে নিজ দেশেই বাজেট সংকটে পড়েছে রিয়াদ।
চারজন ইয়েমেনি ও দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, চলতি বছরে ইয়েমেনি নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বাজেট রেখেছে সৌদি আরব। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ডলার দক্ষিণের যোদ্ধাদের বেতনের জন্য নির্ধারিত, যাদের বেতন আগে আবুধাবি দিত।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার এরইয়ানি বলেন, ‘সৌদি আরব আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে এবং সব বেতন পূর্ণমাত্রায় পরিশোধ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।’ তবে তিনি মোট অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেননি।
এরইয়ানি বলেন, সৌদি সহায়তার ফলে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পুনর্গঠন করা এবং তাদের রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
কর্মকর্তারা বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনের সেই সব এলাকায় একটি সাফল্যের গল্প গড়ে তুলতে চায়, যেগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাকে রিয়াদ সমর্থন দিচ্ছে। তবে ওই সরকার বর্তমানে হুতি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা থেকে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছে।
সৌদি আরব আশা করছে, এতে ইরানঘেঁষা হুতিদের ওপর চাপ বাড়বে, যারা বর্তমানে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সৌদি আরবের আশা, চাপের মুখে হুতিরা আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষের প্রয়োজন দেখা দিলে তার প্রস্তুতি হিসেবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে শক্তিশালী করতেও চায় রিয়াদ।
তিন কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব রাজনৈতিক প্রলোভনও দেখিয়েছে। ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জানিয়েছে, হুতিদের সঙ্গে সংঘাত নিষ্পত্তি হলে তাদের বহুদিনের আলাদা রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
ইয়েমেনের জন্য সৌদি আরবের সামগ্রিক আর্থিক প্যাকেজ এবং একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্রের বিষয়ে যে উন্মুক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত রিয়াদ দিয়েছে, তা আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি। রয়টার্স ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুকাল্লা ও সৌদি রাজধানীতে সাতজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের বেশির ভাগই প্রকাশ্যে ঘোষণা না হওয়া নীতিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ করতে চাননি।
সৌদি সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয় এবং ইয়েমেন সরকার—উভয়ই আর্থিক অঙ্ক বা নতুন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার বিষয়ক আলোচনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও কোনো জবাব দেয়নি। রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি, সৌদি কর্মকর্তারা এসব নীতিমালা নিয়ে ইয়েমেনি পক্ষের সঙ্গে কী বলেছেন।
রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউএই এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ‘উল্লেখযোগ্য সম্পদ’ ব্যয় করেছে।
তবে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, গত বছর ইয়েমেন থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহারের পর ইউএই ‘এখন আর ইয়েমেন বিষয়ক কোনো কার্যক্রমে জড়িত নেই।
ইয়েমেনে নতুন অবস্থান ছাড়াও রিয়াদ আসাদ পরবর্তী সিরিয়া এবং সুদানে আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করছে—যা ইউএইয়ের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি ক্ষেত্র।
চিন্তক প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির গবেষণা ফেলো ফারিয়া আল-মুসলিমি বলেন, সৌদি আরবের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই সীমিত। তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিশাল বিশাল প্রকল্প ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তবু সে পাশের দেশ থেকে কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি নিতে চায় না।
মুসলিমি বলেন, ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি আরবের ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। প্রতিবেশী দেশটিতে অস্থিতিশীলতা সৌদি আরবের ভেতরে বিদেশি পর্যটক ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে পারে। ২০২২ সালে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালে দ্রুত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেটি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।
চিন্তক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক ইয়াসমিন ফারুক বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে সম্পদের বরাদ্দকে অগ্রাধিকার দেবে। কারণ, এখন দেশটি এই ‘সমস্যার একক মালিক’।
সৌদি আরব ইয়েমেনে প্রথম হস্তক্ষেপ করে ২০১৫ সালে। এতে সুন্নি রাষ্ট্রগুলোর একটি নড়বড়ে জোট তৈরি হয়, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল। তারা শিয়া হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, যারা আগের বছর রাজধানী দখল করেছিল।
রিয়াদ ও আবুধাবি উভয়ই ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি উত্তর ও দক্ষিণ ভাগ হবে কি না, সেটি নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে বিভক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীকেও সমর্থনও দিয়েছে। ১৯৯০ সালে একীভূতকরণের আগে এই ভৌগোলিক ভাগাভাগি ছিল।
ইয়েমেনে বছরের পর বছর চলা যুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছিল। এরপরে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যদিও ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধকে ঘিরে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এসব ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল আছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে আবুধাবি–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সৌদি–সমর্থিত বাহিনীর ওপর আচমকা হামলা চালায়। এ ঘটনা দুই শক্তিশালী সুন্নি দেশের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি বিরল প্রদর্শনী।
জবাবে রিয়াদ ইয়েমেনে আবুধাবি–সমর্থিত একটি সামরিক সরঞ্জাম বহন করা জাহাজে বোমা হামলা চালায়। তারা আবুধাবি–সমর্থিত বাহিনীকে ইয়েমেন ত্যাগের নির্দেশ দেয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) বিরুদ্ধে পাল্টা হামলায় সহযোগিতা করে।
এরপর রিয়াদ কৌশল পরিবর্তন করে আকর্ষণমূলক পদক্ষেপ নেয়। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে তারা এসটিসির নেতাদেরকে আলোচনার জন্য রিয়াদে আমন্ত্রণ জানায়। ঘটনা সম্পর্কে জানে এমন তিনটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, প্রথমে সৌদি কর্মকর্তারা তাদের ফোন জব্দ করেন এবং হামলার বিষয়ে দুই দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
তবে ওই কয়েক সপ্তাহে রিয়াদ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সৌদি আরবের পাঁচতারা হোটেলে স্থানান্তরিত করেছে। তাঁদের সব খরচ বহন করছে এবং তাদের কিছু পরিবারের সদস্যদের এখানে আনার প্রস্তাবও দিয়েছে।
একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘হেরে গেলেও, জয়ী দলে থাকা ভালো।’
সৌদি সরকার এ ঘটনার বিবরণের বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি।
ছয়জন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরব ইতিমধ্যেই সৌদি–সমর্থিত যোদ্ধাদের বেতন দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটি লাখো রাষ্ট্রীয় কর্মচারী এবং কয়েক হাজার এসটিসি যোদ্ধাকে অর্থায়ন শুরু করেছে। তাঁরা একই ব্যক্তি, যাঁরা ডিসেম্বরে সৌদি–সমর্থিত বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছিলেন এবং তাঁদের বেতন আগে আবুধাবি দিত।
দুজন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, কেবল এই বছরে ইয়েমেনে বেতন, অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প এবং জ্বালানি সহায়তার জন্য সৌদি আরবের মোট ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে।
এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে পরিচিত এক পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন এই জাহাজের জন্য একজনই ক্যাপ্টেন আছে, একাধিক নয়। এর অর্থ হলো, এটি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।’
ওই কর্মকর্তা বলেন, রিয়াদ এখন ‘বিশ্বাসযোগ্যতা এবং স্থিতিশীলতা’ কিনছে। তবে সবাই ভাবছে, তারা এটি দীর্ঘ মেয়াদে বজায় রাখতে পারবে কি না।
ছয়জন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরব চাইছে দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভক্ত গোষ্ঠীগুলোকে একক সৌদি-নেতৃত্বাধীন সামরিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে, যাতে রাষ্ট্র বিভাজনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এটি হুতিদের ওপর চাপ গড়ে তুলতেও সাহায্য করবে।
বিশ্লেষক ফারুক বলেন, সৌদি আরব হুতিবিরোধী জোটের মধ্যে একটি ভালো অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনের চেষ্টা করছে—যা রিয়াদকে হুতিদের সঙ্গে আলোচনায় একটি শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ দেবে। এ কারণেই ঝুঁকি এত বেশি।
দুজন ইয়েমেনি ও একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, সমর্থন লাভের জন্য সৌদি আরব বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রলুব্ধ করেছে। তাদের বলা হয়েছে, অন্য ইয়েমেনিরা রাজি থাকলে সম্ভবত গণভোটের মাধ্যমে তারা নিজেদের রাষ্ট্র পাবে। তবে প্রথমে হুতি সমস্যার সমাধান করতে হবে।
একজন ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকর্তা বলেন, রিয়াদ তাদের জানিয়েছে, দক্ষিণের ভবিষ্যৎ তাদের হাতে। সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘কিন্তু হুতিদের মোকাবিলা না করা পর্যন্ত কিছুই হবে না।’
রয়টার্সের এক প্রতিবেদক বলেন, জানুয়ারিতে সৌদি আরবে দক্ষিণ ইয়েমেনের প্রতিনিধিদের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী পতাকা উত্তোলন করেছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইয়েমেনি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, এই পদক্ষেপটি সৌদি আরবের পক্ষ থেকে একটি উদার মনোভাব হিসেবে দেখা হয়েছিল, যা এই আন্দোলনের মনোযোগ আবুধাবি থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।
সৌদি আরব শাস্তির ব্যবহারও করেছে
তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এসটিসির হামলার বিরুদ্ধে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহসেন আল-দায়েরির আপত্তি না জানানোর ধরনকে বিশ্বাসঘাতকতা মনে করেছে সৌদি আরব।
অন্য দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জানুয়ারিতে দায়েরিকে বরখাস্ত করা হয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে রিয়াদে কয়েক সপ্তাহ ধরে আটক রাখে। এরপর তাকে একটি হোটেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি কিছু দর্শনার্থীর সঙ্গে দেখা করেছেন।
দুজন ইয়েমেনি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, রিয়াদ কিছু মধ্যস্থতাকারীকে জানিয়েছে, তারা আশা করছে, এই বছরের শেষে ইয়েমেনে সংঘাতের সমাধান হবে। তথ্যমন্ত্রী এরইয়ানি রয়টার্সকে বলেন, তিনি আশা করেন, ২০২৬ সালের শেষে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে চ্যাথাম হাউসের বিশেষজ্ঞ মুসলিমি এই সময়সীমাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মনে করছেন। তিনি এটিকে ইয়েমেনি বাহিনীগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, যাতে তারা নিজেদের কাঠামো ও শৃঙ্খলা ঠিকঠাক করতে পারে।
ইয়েমেনিরা এখনো একক বা আলাদা রাষ্ট্র গঠনের ধারণা নিয়ে বিভক্ত। বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে সৌদি আরবের একক সামরিক কমান্ড গঠনের পরিকল্পনারও বিরোধিতা রয়েছে।
মুসলিমি বলেন, দক্ষিণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি গণভোট আয়োজন করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর একটিতে দশকজুড়ে গড়ে ওঠা একটি গভীর যুদ্ধ অর্থনীতি ভাঙতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
১০ বছর ধরে ইয়েমেনি শিক্ষক মোহাম্মদ আল-আকবারি দেখছেন, তাঁর সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীরাও স্কুল ছেড়ে আবুধাবি বা রিয়াদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিতে চলে যাচ্ছে।
আকবারির মাসিক বেতন এখনো প্রায় ৩০ ডলার। অন্যদিকে, ১৮ বছর বয়সী একজন যোদ্ধা এখনো কমপক্ষে ২৫০ ডলার উপার্জন করছে।
মোহাম্মদ আল-আকবারি ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুকাল্লায় রয়টার্সকে বলেন, ‘যখন আমরা শিশুদের পড়াই, তারা বলে, এই পড়াশোনা দিয়ে আমি কী করব?’
মুসলিমি বলেন, আজকের ইয়েমেন সবচেয়ে বিপজ্জনক যে জিনিসটির মুখোমুখি সেটি হলো—সামরিকায়ন। এখানে যুদ্ধ ও সংঘাতের বাইরে শান্তিপূর্ণ জীবন কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব।