যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের মধ্যে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। রাজধানী তেহরানে, ৫ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের মধ্যে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। রাজধানী তেহরানে, ৫ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ খোলা নিয়ে মার্কিন জবাব পর্যালোচনা করছে ইরান

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া নিয়ে ইরানের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র যে জবাব দিয়েছে, তা এখনো পর্যালোচনা করছে তেহরান। পর্যালোচনা শেষ হলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান এখনো চলছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করে। সংঘাত বন্ধের চেষ্টায় কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

সাত শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। পরে সেটি ভেঙে পড়ে এবং থেমে থেমে আবার হামলা শুরু হয়। এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি নতুন প্রস্তাব দেয় ইরান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পাওয়ার কথাও নিশ্চিত করে তেহরান। তবে এরপর আলোচনা আর তেমন এগোয়নি।

গত রোববার ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং আলোচনা শুরু করতে তেহরান সাতটি শর্ত দিয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জবাবে সেগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে বিবেচনা করা হয়নি।

দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে যেসব বিষয়ে বড় মতপার্থক্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তাদের অন্যতম। ওয়াশিংটন চায়, নতুন যেকোনো আলোচনার একেবারে শুরু থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা হোক। তবে তেহরানের অবস্থান ভিন্ন। তাদের মতে, প্রথমে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং ওই নৌপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।

যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। যুদ্ধ শুরুর পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।