
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আল–জাজিরার আরেক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম মোহাম্মদ উইশাহ। বুধবার গাজা শহরের পশ্চিম পাশের উপকূলীয় আল-রশিদ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর তাঁর গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে আল–জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক তাদের সংবাদদাতার ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, ‘সহকর্মী মোহাম্মদ উইশাহকে লক্ষ্য করে হত্যার এই ঘৃণ্য অপরাধ আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির চরম লঙ্ঘন। এটি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং সত্যের কণ্ঠরোধ করার একটি পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত নীতিরই অংশ।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে আল–জাজিরায় যোগ দেওয়া উইশাহর ওপর এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সাংবাদিকদের ভয় দেখানো এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ।
গাজা শহর থেকে আল–জাজিরার ইব্রাহিম আল-খলিলি জানান, মূল সড়কে যাতায়াতের সময় উইশাহর নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অব্যাহত ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘনের ফলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রায় ছয় মাস পার হলেও ইসরায়েলি বাহিনী একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উইশাহর মতো সাংবাদিক যারা যুদ্ধের শুরু থেকেই সংবাদ প্রচার করে আসছিলেন, তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় ২ হাজার বার শর্ত ভঙ্গ করেছে।
মিডিয়া অফিস মোহাম্মদ উইশাহর হত্যাকাণ্ডকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ‘পরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তু ও হত্যাকাণ্ডের’ একটি উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস এবং আরব জার্নালিস্টস ইউনিয়নসহ বিশ্বব্যাপী মিডিয়া সংস্থাগুলোকে ফিলিস্তিনি সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে এই অপরাধের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার এবং আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গাজায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হামলা সাময়িকভাবে স্তিমিত হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৩৪ জন আহত হয়েছেন।