ইরানের পতাকা
ইরানের পতাকা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কায় ইরানের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় গতকাল বুধবার অধিকাংশ বেসামরিক ফ্লাইটের জন্য নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ফলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাকে তাদের ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে, অথবা আকাশপথ পরিবর্তন করে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি নোটিশ প্রকাশ করেছে। সেখানে জানানো হয়, বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের উড়োজাহাজের জন্য ইরানের আকাশসীমা বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) থেকে বন্ধ থাকবে। প্রাথমিকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তবে এর ৩০ মিনিট পরও এফএএর ওয়েবসাইটে এ নোটিশ ছিল।

ফ্লাইটের তথ্য পর্যবেক্ষক ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪-এর তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইরানের আকাশে চীন ও ইরানের মধ্যে যাতায়াতকারী ‘মাহান এয়ার’-এর দুটি উড়োজাহাজ ছাড়া আর কোনো বেসামরিক উড়োজাহাজ দেখা যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতের ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইরানের আকাশপথ বন্ধ হওয়ায় তাদের ফ্লাইটগুলো বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে। রাশিয়ার অ্যারোফ্লটের একটি উড়োজাহাজ তেহরানের পথে রওনা দিলেও মাঝপথ থেকে মস্কোতে ফিরে গেছে।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভ ঘিরে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর কোনো হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান। এ হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভারতের ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ইরানের আকাশপথ বন্ধ হওয়ায় তাদের ফ্লাইটগুলো বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে। রাশিয়ার অ্যারোফ্লটের একটি উড়োজাহাজ তেহরানের পথে রওনা দিলেও মাঝপথ থেকে মস্কোতে ফিরে গেছে।

জার্মানির উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা লুফথানসা ও ইতালির আইটিএ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, তারা আপাতত ইরান ও ইরাকের আকাশপথ এড়িয়ে চলবে। এ ছাড়া নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে তেল আবিব ও আম্মানে রাতের পরিবর্তে দিনে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

২০২০ সালে ভুলবশত ইউক্রেনীয় একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল ইরানের সামরিক বাহিনী। এতে ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হন। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে ঝুঁকি এড়াতে অধিকাংশ উড়োজাহাজ সংস্থা এখন ইরানের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে।