সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের এক সেনাসদস্য তাইজ শহরের পশ্চিমে জাবাল হান ফ্রন্টের কাছে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দিকে তাকিয়ে আছেন। ৩ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের এক সেনাসদস্য তাইজ শহরের পশ্চিমে জাবাল হান ফ্রন্টের কাছে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দিকে তাকিয়ে আছেন। ৩ অক্টোবর ২০২৬

হুতিদের কাছ থেকে মোখা পুনর্দখলের দাবি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বলেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান চালিয়ে কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা পুনর্দখল করেছে তারা।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক বাহিনী গতকাল সোমবার জানায়, বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের নিয়ন্ত্রণও তারা আবার নিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ এই প্রণালি থেকে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হটানোই তাদের লক্ষ্য।

সামরিক বাহিনী আরও বলেছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা অভিমুখেও একটি ‘কৌশলগত অভিযান’ শুরু করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, মোখার কাছে কয়েকটি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন হুতি যোদ্ধা নিহত ও আহত হয়েছেন।

সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কয়েকজন হুতি যোদ্ধাকে আটক করা হয়েছে। তবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে আবার সংঘাতে জড়িয়েছে হুতিরা।

গত সেপ্টেম্বরে দ্রুতগতির এক অভিযানে পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েজ প্রদেশের মোখা এবং পরে বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের এলাকা দখল করে হুতিরা।

গতকাল দিনের শুরুতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, তারা তায়েজের ধুবাব জেলার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে প্রণালির কাছের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানও দখলে নিয়েছে। পাশাপাশি সানা অভিমুখে ‘কৌশলগত অভিযান’ শুরু করেছে তারা।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশটির জনবহুল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ধুবাবে লড়াই নিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী বলেছে, ‘হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস ও জায়ান্টস ব্রিগেডসের সদস্যরা বিমান সহায়তায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছেন। জেলার কয়েকটি এলাকায় হুতি যোদ্ধাদের অবস্থান ও চলাচল লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়।’

নাম প্রকাশ না করা সেনাবাহিনীর একটি সূত্র সাবাকে বলেছে, ‘অভিযানে সরকারি বাহিনী সামনে এগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অবস্থান দখল করেছে। একই সঙ্গে বাব আল-মানদেবগামী সরবরাহপথ ও সড়কগুলো বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।’

ওই সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে হুতিদের অনেক যোদ্ধা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের কিছু সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাবার প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি বাহিনী ‘মুক্ত করা এলাকাগুলোয় তল্লাশি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি হুতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করছে।’

এর কিছুক্ষণ পর ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায়, তারা হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান শুরু করেছে।

জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করছে ১০০টি যুদ্ধবিমান।

তাঁর দাবি, জোট বাব আল-মানদেব প্রণালিতে ‘আকাশপথে সুরক্ষা’ নিশ্চিত করেছে এবং হুতিদের কয়েক শ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের এসব দাবির সত্যতা আল-জাজিরা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।