এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে ডেভিড এস ম্যাক সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্সে। ১৪ আগস্ট ২০২৬
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে ডেভিড এস ম্যাক সেন্টার ফর ট্রেনিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্সে। ১৪ আগস্ট ২০২৬

ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাপ্রধানের

ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই অঞ্চল রক্ষায় নিয়োজিত ইরানি বাহিনী প্রয়োজনে ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে দেবে’। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প গত শুক্রবার হুমকি দিয়েছেন, তিনি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ডে পরিণত করবেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে ‘বিপজ্জনক রসিকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আমির হাতামি।

ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, ‘ইরানকে নিয়ে এ ধরনের রসিকতা করা একটি বড় ভুল। কারণ, এটি ইরান। আর এ দেশের এমন সব যোদ্ধা রয়েছেন, যাঁরা আপনার পা ভেঙে দেবেন।’

আমির হাতামি আরও দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীকে এই অঞ্চল থেকে ‘কার্যকরভাবে বিতাড়িত’ করা হয়েছে। পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের কোনো অনুমতি এখন আর তাদের নেই।

ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরতে দেওয়া হবে না এবং ইরান কখনো তা হতে দেবে না।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর প্রণালিটি বন্ধ করে দেয় ইরান। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে, প্রণালিটির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

জাহাজ চলাচলকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।

এদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলে দেশটির সেনারা হামলা চালাচ্ছেন।

এর আগে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ডে পরিণত করার ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছিলেন, ‘টুইট করে, বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে, কোনো আদেশ জারি করে কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘অপরাধী’ ও ‘নির্বোধ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।