ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

হারের ভয়ে আগাম নির্বাচন এড়াতে মরিয়া নেতানিয়াহু

নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে আগাম ভোট এড়াতে এবং রাষ্ট্রীয় বাজেট পাসের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চললেও জনমত জরিপে তাঁর জনপ্রিয়তায় তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলের বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন একটি সূত্র জানায়, যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত সময়ের (অক্টোবর) আগেই ভোট করার কথা ভাবছিল নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট।

১৯ মার্চ ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এ প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসন ৩৪টি থেকে কমে ২৮টিতে নেমে আসতে পারে। লিকুদ বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে থাকলেও জোটগতভাবে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে। জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোট সব মিলিয়ে মাত্র ৫১টি আসন পেতে পারে।

ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পার্লামেন্টে বাজেট পাস করতে না পারলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হওয়ার পর নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ আগামী জুনে ভোটের প্রস্তাব প্রকাশ্যে এনেছিলেন।

তবে যুদ্ধের চার সপ্তাহ পার হলেও ইরানের সরকার উৎখাতের লক্ষ্য এখনো সফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু এখন আগাম নির্বাচন এড়াতে চাইছেন। তাঁর সরকারের তিন সদস্য রয়টার্সকে এমনটা জানিয়েছেন।

নির্বাচনে পরাজয় ঠেকাতে নেতানিয়াহু এখন রাজনৈতিক মিত্রদের বিভিন্ন ফান্ড বা তহবিল বরাদ্দ দিচ্ছেন, যাতে পার্লামেন্টে বাজেটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা যায়। এমনকি আগামী সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে বাজেট পাস করতে পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির সব প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক মুখপাত্র সাড়া দেননি। তবে ২০২৩ সাল থেকেই যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন এগিয়ে আনার বিষয়টি নেতানিয়াহু নাকচ করে আসছেন।

১২ মার্চ সাংবাদিকদের নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি আশা করি, সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করবে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরেই নির্বাচন হবে।’ যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে রাজনৈতিক মিত্রদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সামরিক খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবিত ২২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বিশাল বাজেট পাস করতে তিনি সহযোগিতার অনুরোধ করেন।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জনমত অপরিবর্তিত

নেতানিয়াহুর জন্য এই যুদ্ধ গাজা থেকে মনোযোগ সরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানের সুযোগ তৈরি করেছে। তাঁর এ অবস্থানের প্রতি ইসরায়েলে জাতীয় ঐকমত্য সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় নেতানিয়াহু যে যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন ইসরায়েলি নাগরিকদের তার প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।

কিন্তু যুদ্ধের প্রতি সমর্থন থাকলেও ভোটের রাজনীতিতে এর তেমন প্রভাব নেই। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর নেতানিয়াহুর ‘নিরাপত্তার আস্থাভাজন’ ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাচনী জরিপগুলো বলছে, সেই সময়ের পর থেকে পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গিদিয়ন রাহাত বলেন, জরিপে দেখা যাচ্ছে ৪০ শতাংশ ভোটার নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোটের পক্ষে অটল রয়েছেন। বিপরীতে আরও ৪০ শতাংশ ভোটার বিরোধী দলগুলোকে সমর্থন দিচ্ছেন। মাঝখানের দোদুল্যমান ভোটাররা এখনো নেতানিয়াহুর দিকে ঝোঁকেননি।

এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, ইসরায়েলি নাগরিকেরা যুদ্ধের লক্ষ্যের প্রতি সমর্থন দিলেও জুনের প্রথম দফার লড়াইয়ে কোনো চূড়ান্ত বা কূটনৈতিক সমাধান না আসায় তাঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে চিত্রটা অনেকটা এমন যে কয়েক মাস যুদ্ধ চলে, তারপর কিছুদিন শান্ত থাকে এবং এরপর আবার যুদ্ধ শুরু হয়।’

১৯ মার্চ ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এ প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসন ৩৪টি থেকে কমে ২৮টিতে নেমে আসতে পারে। লিকুদ বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে থাকলেও জোটগতভাবে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে। জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোট সব মিলিয়ে মাত্র ৫১টি আসন পেতে পারে।