নতুন হিজরি বছর উপলক্ষে পবিত্র কাবা শরিফের পুরোনো গিলাফ বা কিসওয়া বদলে নতুন কিসওয়া পরানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র এই স্থাপনার প্রতি সৌদি আরবের বিশেষ যত্ন এবং দেশটির কারিগরদের ইসলামি কারুশিল্পের মুনশিয়ানা ফুটে উঠেছে।
মঙ্গলবার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, কিসওয়া পরিবর্তন করা মসজিদুল হারামের অন্যতম প্রধান রীতি। মক্কার ‘কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য হোলি কাবা কিসওয়া’য় দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিশ্রমের পর এই কিসওয়া তৈরির কাজ শেষ হয়।
নতুন এই কিসওয়া তৈরিতে কাজ করেছেন প্রায় ১৫০ জন সৌদি কারিগর। দীর্ঘ ১১ মাস ধরে ৪৭টি বিলাসবহুল কালো রেশমি কাপড়ের টুকরা দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। কিসওয়ায় পবিত্র কোরআনের ৩০টি আয়াত খোদাই করা হয়েছে। এতে রুপালি সুতার ওপর ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো গিলাফটির ওজন ১ হাজার ৪১০ কেজি।
কারিগরেরা কাবাঘরের মিজাব (বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের নল), কোনা এবং অন্যান্য অংশে স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া সুতায় কারুকার্য করা পর্দা, হিজাম (কোমরবন্ধ), সামাদিয়াহ (সাজসজ্জার উপাদান), লণ্ঠন আকৃতির বিভিন্ন বস্তু ও অলংকরণ বসিয়ে দেন। এতে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তির দৃশ্যের অবতারণা হয়।
কাবার কিসওয়া দেখতে একটি অখণ্ড কাপড়ের টুকরা মনে হলেও এটি আসলে অনেকগুলো বিশেষায়িত কাপড়ের সংমিশ্রণ। কাঠামো, উজ্জ্বলতা ও স্থায়িত্বের বিষয়টি মাথায় রেখে এতে বিভিন্ন ধরনের কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে।
কিসওয়ার প্রধান অংশটি তৈরি করা হয়েছে কালো রেশম দিয়ে। এটি কিসওয়ার বাইরের আবরণ তৈরি করে এবং একে অনন্য রূপ দেয়। এর নকশায় কোরআনের আয়াত খোদাই এবং অলংকরণের জন্য বিশেষ এক ধরনের রেশমি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে।
কিসওয়াটিকে টেকসই ও মজবুত করতে এর ভেতরে আস্তর হিসেবে ঘিয়ে রঙের সুতি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া কিসওয়ার কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য এর বাড়তি অংশগুলোতে সাদা সুতি কাপড় দেওয়া হয়েছে।
কিসওয়ার কিছু সাজসজ্জায় লাল রেশম ব্যবহার করা হয়েছে। কাবার দরজার পর্দার পেছনের অংশে সবুজ রেশমি কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া কাবার ভেতরের অংশের আবরণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সবুজ রেশমি কাপড়।
সব মিলিয়ে একটি সূক্ষ্ম উৎপাদনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব উপকরণের সমন্বয়ে কিসওয়াটি তৈরি করা হয়েছে। এটি কিসওয়া তৈরির নেপথ্যে থাকা কারিগরদের অনন্য দক্ষতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।