২০২৪ সালের অক্টোবরে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা
২০২৪ সালের অক্টোবরে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার (প্রায় ২৫০ কোটি টাকা) পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তথ্যদাতাকে প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করবে দেশটি।

গতকাল শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ ঘোষণা দেয়।

সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার দেওয়া হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম, বিজ্ঞানী, গবেষক ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি চালু করা হয়। তথ্যের বিনিময়ে পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে তথ্যদাতাকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এ কর্মসূচিতে।

১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি চালু করা হয়। তথ্যের বিনিময়ে পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে তথ্যদাতাকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে এ কর্মসূচিতে।

পুরস্কার ঘোষণার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তাবিষয়ক বাধ্যবাধকতা না মানায় দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রমে নজরদারি করতে পারছে না সংস্থাটি। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তৈরি ও এর মজুত সম্পর্কে সংস্থাটি ধারাবাহিকভাবে তথ্য জানতে পারছে না।

তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো শর্ত জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। গতকাল রাতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা না চালালে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে দেশটি তা ব্যবহার করত এবং মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করে দিত।

ট্রাম্প আরও বলেছেন, আট মাসের যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন দেশটি যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা একটি চুক্তি করতে চায়।’

এদিকে আবার যাতে যুদ্ধ শুরু না হয়, সেজন্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহতভাবে চালাচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, তাঁর সরকার এখনো আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে আরও দুয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়া বাকি আছে। এর মধ্যে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সেখানে ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনা আছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।