
হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারত অভিমুখী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চায় ভারত। বিনিময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে জব্দ করা তিনটি ট্যাঙ্কার ছেড়ে দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে দাবি জানিয়েছে ইরান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
নিজেদের জলসীমার কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ইরান-সংশ্লিষ্ট ওই ট্যাঙ্কার তিনটি জব্দ করেছিল ভারত। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জাহাজগুলো নিজেদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছিল এবং সমুদ্রপথে অবৈধভাবে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিল।
সংশ্লিষ্ট এক ইরানি কর্মকর্তার সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তেহরান নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসাসরঞ্জাম সরবরাহেরও অনুরোধ জানিয়েছে। ওই সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিতে থাকা ইরান দূতাবাস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, সম্প্রতি দুটি ভারতীয় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে একটি গতকাল পশ্চিম ভারতে ফিরে এসেছে।
ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালির উভয় পাশে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সাম্প্রতিক এই তৎপরতা দুই দেশের ‘দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কেরই’ প্রতিফলন। তিনি এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, এই আলোচনার বিনিময়ে কোনো কিছুরই আদান-প্রদান করা হচ্ছে না।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে পুরো অঞ্চলজুড়েই পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে তেহরান। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোতেও হামলা চালানো হয়। এতে তিন ভারতীয় নাবিক নিহত ও একজন নিখোঁজ হয়েছেন।
গত সোমবার ভারত জানিয়েছে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় পতাকাবাহী অন্তত ২২টি জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক অবস্থান করছেন।
একটি ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, ওই জাহাজগুলোর মধ্যে ছয়টিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রয়েছে। রান্নার গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে ভারত এই জাহাজগুলোকে সবার আগে পার করার বিষয়ে আগ্রহী।
ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।