
ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। আজ বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
একই বিবৃতিতে ইরানের পক্ষ থেকে ওমানের প্রতি সংহতি জানানো হয়েছে। কারণ, বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে নিয়ে হুমকিসূচক মন্তব্য করেছেন। অথচ ওমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, ‘কেউ এই প্রণালির (হরমুজ) নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা (হরমুজ প্রণালি) আন্তর্জাতিক জলসীমা। ওমানকেও অন্য সবার মতোই আচরণ করতে হবে। না হলে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি তারা এটা বোঝে তো ভালো।’
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আজ বৃহস্পতিবার ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ড্রোন দিয়ে চালানো একটি অভিযানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। কারণ, এ অভিযান হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল।
ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা–সংক্রান্ত একটি খবর অস্বীকার করার কয়েক ঘণ্টা পর এ হামলা হয়।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, তারা ইরানের চারটি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসের একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ইরান ওই স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, তারা ওই মার্কিন হামলার জবাবে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করেছে। তবে কোন ঘাঁটি তা তারা প্রকাশ করেনি। কুয়েত বলেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। তবে কোথা থেকে হামলা চালানো হয়েছে তা তারা উল্লেখ করেনি।
এই উত্তেজনা আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিকে হুমকিতে ফেলেছে। গত এপ্রিলের শুরু থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে।