প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাতের পর এসেছে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। এ খবরে রাস্তায় নেমে ইরানিদের উল্লাস। গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরানে
প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাতের পর এসেছে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। এ খবরে রাস্তায় নেমে ইরানিদের উল্লাস। গতকাল ইরানের রাজধানী তেহরানে

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই লেবাননে একের পর এক হামলা, কাটল না অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের আপাতত অবসান হয়েছে। দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসবে দুই দেশ। তবে যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি করতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাত আটটা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময়সীমা না মানলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। তবে সময় শেষের ঘণ্টা দুয়েক আগেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে দুই পক্ষ থেকে। এতে মূল ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তান।

যুদ্ধবিরতি দুই সপ্তাহের জন্য হলেও তা আপাতত পুরো বিশ্বে স্বস্তি এনেছে। কারণ, এ যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২০ ডলারে ঠেকেছিল। যুদ্ধবিরতির খবরে তা এক ধাক্কায় কমে ৯২ ডলারে এসেছে। চাঙা হয়েছে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারও।

যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত লেবাননে ২৫৪ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আর আল–জাজিরাকে একটি সূত্র জানিয়েছে, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে ইসরায়েলে হামলার কথা বিবেচনা করতে পারে ইরান।

এ স্বস্তির মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময় লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ। কারণ, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত লেবাননে ২৫৪ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আর আল–জাজিরাকে একটি সূত্র জানিয়েছে, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি থেকে সরে ইসরায়েলে হামলার কথা বিবেচনা করতে পারে ইরান।

যুদ্ধ শুরুর পর গতকাল লেবাননে সবচেয়ে বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে ১০ মিনিটে বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি বিমান হামলা হয়। হাসপাতালগুলো ভরে যায় রক্তাক্ত মানুষে। লেবানন থেকে জাতিসংঘের কর্মকর্তা ইমরান রেজা বলেন, হামলায় এত মানুষ আহত হচ্ছেন, যা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা লেবানন সরকারের নেই।

এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিবিসি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। আর এএফপি ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরসের (আইআরজিসি) বরাতে জানিয়েছে, হরমুজের কয়েকটি বিকল্প পথে জাহাজ চলতে পারে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আবাস আসলানি বলেন, এর আগে ২০২৪ সালে যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ড স্থায়ীভাবে থামাতে চায় ইরান। এখন যুদ্ধবিরতির মধ্যে আবার লেবাননে ইসরায়েলের হামলা চললে আলোচনা থেকে সরে যেতে পারে তেহরান। এতে যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে।

এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিবিসি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। আর এএফপির খবর বলছে, হরমুজের কয়েকটি বিকল্প পথে জাহাজ চলতে পারে।

পাকিস্তানের হাত ধরে যুদ্ধবিরতি

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তা থামাতে বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিল। তবে সফলতা আসেনি। পাকিস্তানও জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে। সর্বশেষ সোমবার রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ। পরে খবর আসে, ওই প্রস্তাবে কোনো পক্ষই রাজি হয়নি। এ ব্যর্থতার পেছনে ইসরায়েল ছিল বলে তখন জানিয়েছিল পাকিস্তান।

পরে মঙ্গলবার ট্রাম্পের সময়সীমা শেষের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি চালু করা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হওয়ায় দুই সপ্তাহ বোমা হামলা বন্ধ রাখবেন তিনি।

ট্রাম্পের এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও। তাঁর ভাষ্য, সোমবার পাকিস্তানের প্রস্তাবের জবাবে তাঁরা যুদ্ধ বন্ধে যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার ভিত্তিতে আলোচনা শুরু করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় দুই পক্ষের প্রশংসা করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, “ইসলামাবাদ সংলাপ” টেকসই শান্তি ফিরিয়ে আনতে সফল হবে।’

আগামীকাল শুক্রবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হতে যাওয়া আলোচনাকে ইসলামাবাদ সংলাপ বলা হচ্ছে। এ আলোচনায় যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে দুই পক্ষের মধ্যে আলাপ হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএসএনএর খবর অনুযায়ী, ওই আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পক্ষে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অংশ নিতে পারেন।

ইরানিদের উচ্ছ্বাস-সন্দেহ

যুদ্ধবিরতির খবরে গভীর রাতেই তেহরানসহ ইরানজুড়ে রাস্তায় রাস্তায় নামে উচ্ছ্বসিত মানুষের ঢল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএর তথ্যমতে, যুদ্ধে ইরানে মোট নিহত সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়েছে।

গতকাল ইরানিদের অনেকের মুখে ছিল একটি কথা—ইরানের ১০ দফার ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হচ্ছে, তাদের শর্তেই যুদ্ধ শেষের পথে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ইরানের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। আগেও আলোচনার মধ্যে মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে তারা। তেহরানে উল্লাসে অংশ নেওয়া এক তরুণী বলেন, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত রং দেখিয়েছে। সেই অভ্যাস কি বদলেছে?

সেদিকে ইঙ্গিত করে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরস (আইআরজিসি)। প্রভাবশালী এই বাহিনী বলেছে, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশে তাদের আঙুল এখনো ‘ট্রিগারই আছে’। শত্রু সব সময় প্রতারণা করে এসেছে। তাদের কোনো প্রতিশ্রুতি ইরান বিশ্বাস করে না। যেকোনো আগ্রাসনের জবাব আরও জোরালোভাবে দেওয়া হবে।

ইরানের ১০ প্রস্তাবের প্রধান বিষয়গুলো হলো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে; মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে হবে; ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে; ইরানের কিছু নিয়ম অনুযায়ী হরমুজ দিয়ে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলবে; পরমাণু অস্ত্র বানাবে না ইরান।

‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না ইরান’

যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের ভাষ্য, তাঁদের জয় হয়েছে। ইরানে নিজেদের সব সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পরই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এর আগেও যুদ্ধে জয়লাভের দাবি করেছেন তিনি। আর যুদ্ধে ইরানের সরকার পতন, সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসসহ ওয়াশিংটনের উল্লেখ করা কোনো লক্ষ্যই পূরণ হয়নি। উল্টো ১৩ সেনা নিহত হওয়াসহ দেশটির বড় সামরিক-বেসামরিক ক্ষতি হয়েছে।

তবু কেন ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটলেন? গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, ইরানে আরও হামলা বাড়ালে, উপসাগরীয় দেশগুলোয় পাল্টা হামলাও বাড়ত। এতে আরও জ্বালানিসংকট দেখা দিত। এ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া ট্রাম্পের জন্য জরুরি ছিল। বলতে গেলে, এ যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

এদিকে ইসলামাবাদে আলোচনা শুরুর আগে গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানকে আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেওয়া হবে না। তবে চুক্তি হলে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের অনেকগুলো মেনে নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে তেহরান থেকে কিছু জানানো হয়নি।

লেবাননে ১৯৮২ সালের স্মৃতি

যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যে পোস্ট দিয়েছিলেন, তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল, লেবাননসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তবে ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, ইরানে হামলা বন্ধ করলেও লেবাননে তাদের অভিযান চলবে। লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ নয় বলে জানিয়েছে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসও।

লেবাননে গতকালের হামলা দেশটির অনেককে ১৯৮২ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই বছরের জুনে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে ধ্বংসের কথা বলে লেবাননে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এরপর দেশটিতে চালানো হয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞগুলোর একটি। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত অবরোধ করে রাখা হয় বৈরুত। দীর্ঘদিন শহরটির মানুষকে থাকতে হয় চরম সংকটে।

এমন পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা না হলে এই চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যেতে পারে। আর ইরানের প্রভাবশালী বাহিনী আইআরজিসির ভাষ্য, লেবাননের ওপর ইসরায়েলের আগ্রাসন যদি অবিলম্বে বন্ধ না করা হয়, তাহলে তারা এমন জবাব দেবে যে আগ্রাসনকারীদের অনুতপ্ত হতে হবে।

‘সব পক্ষকে’ যুদ্ধবিরতি মানার আহ্বান

যুদ্ধবিরতি মধ্যে লেবানন ছাড়াও গতকাল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে কুয়েত। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কাতার ও সৌদি আরবও ইরানের হামলা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে।

এমন হামলার মধ্যে সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। লেবাননে হামলা শান্তিপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শাহবাজ শরিফ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, কানাডা, ডেনমার্ক, স্পেনসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নেতারাও যৌথ বিবৃতি দিয়ে সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে শান্তিপ্রক্রিয়ার শেষটা ভালো হবে কি না, তা কয়েক দিনের মধ্যে বোঝা যাবে বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের গবেষক রস হ্যারিসন। তিনি বলেছেন, দুই সপ্তাহের এই বিরতি কি শুধুই যুদ্ধের একটি কৌশল, নাকি যুদ্ধ বন্ধের সুযোগ তৈরি হলো, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো নিয়ে সমঝোতা আসলেই জটিল হবে। লেবাননে হামলা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই বলা যায়, আগামী দুই সপ্তাহ খুবই কঠিন হতে চলেছে।