সিকিউর আমেরিকা অ্যাক্টে স্বাক্ষর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ১০ জুন ২০২৬
সিকিউর আমেরিকা অ্যাক্টে স্বাক্ষর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ১০ জুন ২০২৬

ইরানে আজ রাতে আরও কঠোর হামলা ও খারগ দ্বীপ দখলের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

ইরানের ওপর ‘আজ বৃহস্পতিবার রাতে আরও কঠোর’ হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির মূল অবকাঠামোর কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলেরও হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এমন এক সময়ে ট্রাম্পের নতুন হুমকি এল, যখন গতকাল বুধবারের পর আজ বৃহস্পতিবারও পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই অবস্থায় নাজুক যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা হুমকির মুখে পড়েছে।

তবে ইরানি সূত্র ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আজ বৃহস্পতিবার এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানে আজ রাতে আরও কঠোর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। (ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, বিমান ধ্বংসকারী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সব প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের বেশির ভাগ আক্রমণাত্মক সক্ষমতা কিন্তু এরই মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে)।’

ইরানের জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রধান কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘সেই দিনও বেশি দূরে নয়, যখন আমরা খারগ দ্বীপ ও অন্যান্য তেল অবকাঠামো কেন্দ্রগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নিয়ে নেব।’

ট্রাম্পের এই সর্বশেষ হুমকি ঘিরে তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ সকালে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার কারণে গত এপ্রিলের শুরুতে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। ২ মার্চ থেকে লেবাননেও আগ্রাসন চালায় ইসরায়েল। দুই দেশের আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরান ও লেবাননে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে।

হামলার ৪০ দিনের মাথায় ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন-তেহরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর পর থেকে তাদের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকের চেষ্টা চলছে।

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা থমকে গেলেও তিনটি ইরানি সূত্র ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দুই পক্ষের পরোক্ষ আলোচনা এখনো চলছে। তবে বেশ কিছু বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আলোচনা বাকি রয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দেশের ব্যাংকে জব্দ করা ইরানের হাজার হাজার কোটি ডলার কীভাবে মুক্ত করা হবে, সেই বিষয়টি অন্যতম।

একটি ইরানি সূত্র বলেছে, সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই যুদ্ধ একটি কানাগলিতে আটকে গেছে। ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে আলোচনা ও সমঝোতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, একটি চুক্তির সবকিছু প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু পরোক্ষ আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গতকাল বলেন, ‘যদি আমাদের বোমা দিয়ে আলোচনা করতে হয়, তবে আমরা বোমা দিয়েই আলোচনা করব। এ কাজে আমরা বেশ পটু।’