তেহরানের একটি সড়কে ইসরায়েলবিরোধী দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ইরানি নারী। ১৮ মে ২০২৬
তেহরানের একটি সড়কে ইসরায়েলবিরোধী দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ইরানি নারী। ১৮ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনা

কাতারের প্রতিনিধিদল তেহরানে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও

কাতারের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা সেখানে গেছে। যুদ্ধ বন্ধ ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে তারা কাজ করবে। এ বিষয়ে জানাশোনা আছে, এমন একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে ইরানি বার্তা সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির রাতে এক সরকারি সফরে ইরানে পৌঁছেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি আগে থেকে তেহরানে অবস্থান করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা–হামলা চালায়। কাতারও আক্রান্ত হয়। যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায় গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়।

এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রায় ২১ ঘণ্টা সরাসরি বৈঠক করেন। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়া বৈঠক শেষ হয়। এর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক আয়োজনের জন্য পাকিস্তান ও অন্য মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালাচ্ছে।

পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করলেও কাতারের যুক্ত হওয়াটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কাতার মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ত মিত্র। একই সঙ্গে দেশটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাক-চ্যানেল বা পর্দার আড়ালের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

গাজা যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু ইরানের হামলার কারণে দেশটি এত দিন এই যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখেছিল। কিন্তু এখন সেই দূরত্ব একপাশে সরিয়ে রেখে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় কাজ শুরু করেছে দোহা।

ওই সূত্র জানায়, ‘শুক্রবার কাতারের দলটি তেহরানে পৌঁছেছে। প্রতিনিধিদলটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে সেখানে গেছে, যাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারে। এই চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে ও ইরানের সঙ্গে থাকা বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান করবে।’

এ বিষয়ে জানতে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

পাকিস্তান প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করলেও কাতারের যুক্ত হওয়াটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কাতার মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ত মিত্র। একই সঙ্গে দেশটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাক-চ্যানেল বা পর্দার আড়ালের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

আমরা সবার সঙ্গে কথা বলছি। তবে আমি বলব, আমরা মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করছি।
মার্কো রুবিও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে জানায়, এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তবে মতপার্থক্যগুলো আগের চেয়ে কমে এসেছে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—এ দুটি বিষয় বর্তমানে আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একই দিন কিছু অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘কিছু ভালো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে আমি খুব বেশি আশাবাদী হতে চাই না... দেখা যাক আগামী কয়েক দিনে কী ঘটে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দোহা সফরকে সামনে রেখে সড়কবাতির খুঁটিতে টাঙানো যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের পতাকা। ১৩ মে ২০২৫

শুক্রবার সুইডেনে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে কাতারের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ইরান নিয়ে আলোচনায় পাকিস্তানই প্রধান মধ্যস্থতাকারী। তারা ‘প্রশংসনীয় কাজ’ করেছে।

তবে রুবিও বলেন, ‘নিশ্চয়ই অন্য দেশগুলোরও এখানে স্বার্থ আছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর, যারা এই পরিস্থিতির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে। আমরা সবার সঙ্গে কথা বলছি। তবে আমি বলব, আমরা মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করছি এবং সেটি বহাল রয়েছে।’

ইরান কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানের গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কাতার যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নন-ন্যাটো মিত্র। তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত।

এদিকে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, সফরকালে সেনাপ্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, আঞ্চলিক শান্তি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন। তিনি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

অন্যদিকে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শুক্রবার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন।