সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র মসজিদুল হারামে মুসল্লিরা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র মসজিদুল হারামে মুসল্লিরা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে হুতিরা ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ সৌদি আরবের, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিরা। ড্রোনটি আগেভাগে শনাক্ত ও ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।

হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই মক্কা নগরী অভিমুখে ড্রোন পাঠানোর এ অভিযোগ পাওয়া গেল।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল–মালিকি দাবি করেন, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শত্রুপক্ষের ড্রোনটি শনাক্ত করে। সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটা ভূপাতিত করা হয়।

আল-মালিকি এ ঘটনাকে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ও বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি করার চেষ্টা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। সতর্ক করে তিনি বলেন, মুসলিমদের পবিত্র দুই মসজিদ (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি) ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক–বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে মক্কা নগরীতে গতকাল নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরব সরকার। সর্বশেষ ২০১৭ সালে হুতিরা পবিত্র এ নগরীতে হামলার চেষ্টা করেছিল। এরপর এবারই প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো।

তবে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করার কয়েক মিনিটের মধ্যে তা তুলে নেয় সরকার। একই ধরনের সতর্কতা তাইফ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও জারি করা হয়েছিল।

মক্কা নগরীকে নিশানা বানানোর অভিযোগ আগেও অস্বীকার করেছে হুতিরা। তাদের দাবি, তারা কখনোই পবিত্র স্থানগুলো নিশানা করে না।

ইয়েমেনের বার্তা সংস্থা সাবা গতকাল হুতিদের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে হুতিদের একটি সামরিক সূত্র মক্কা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানের প্রতি হুতিদের হুমকি থাকার অভিযোগ জোরালোভাবে নাকচ করেছে।

এমন অভিযোগকে ‘ভুল তথ্য’ বলে সমালোচনা করে সূত্রটি বলেছে, ‘মক্কা নগরী ও অন্য কোনো পবিত্র স্থানের প্রতি ইয়েমেন থেকে হুমকি রয়েছে—এমন অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করছি আমরা।’

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের লড়াই চলছে। ওই সময় হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে হুতিদের সঙ্গে এ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরবও।

চলমান ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের আগের সেই বিরোধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত, আবহা আর তাইফ শহরে গত সোমবার বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে ১৩ বেসামরিক মানুষ আহত এবং ৭টি বাড়ি ও ২টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মক্কা নগরী ও অন্য কোনো পবিত্র স্থানের প্রতি ইয়েমেন থেকে হুমকি রয়েছে—এমন অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করছি আমরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হুতিরা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে তিনটি শহরে এসব হামলা চালায়।

হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পেছনে রয়েছে ইয়েমেনের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো বিষয়। সম্প্রতি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের অগ্রযাত্রায় দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে।

এরই মধ্যে হুতিরা লোহিত সাগরতীরের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলের পর বাব আল-মানদেব প্রণালির মুখে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এতে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাব আল–মানদেব পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা।

হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক–বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।