ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যদের একটি টহল দল
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যদের একটি টহল দল

হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা উদ্ধারে সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ঘোষণা ইয়েমেনের, পাশে সৌদি

সৌদি আরব–সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব এলাকা পুনরুদ্ধারে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ইয়েমেনে আরও অগ্রগতি অর্জন করেছে ইরানপন্থী হুতিরা। তারা সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত একটি শহর ঘিরে ফেলেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল–আলিমি গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ আমি দেশের বাকি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি। পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্র আর এর প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই এ অভিযানের লক্ষ্য।’

এ অভিযানে মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঠিক করেছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের আকস্মিক অভিযানে দেশটির লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বাব আল–মানদেব প্রণালির আশপাশের কিছু এলাকা হাতছাড়া হয়েছে। এ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ–চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ।

নিরাপত্তা বাহিনীর তিনটি সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরবরাহ পথ গতকাল বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে হুতিরা। এ পথ তাইজ শহরের সঙ্গে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পর সরকারি বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে।

তাইজ শহর আর এর আশপাশে কয়েক দিন ধরে তুমুল লড়াই চলছিল। এর মধ্যেই হুতিদের এমন অগ্রগতির কথা জানা গেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে ও এর আশপাশে গত ২৪ ঘণ্টার লড়াইয়ে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে উভয় পক্ষের কয়েকটি সূত্র গতকাল জানিয়েছে।

পুলিশের স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, হুতিরা আল-সাফিয়া এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। প্রধান সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে। থানাও দখল করে নিয়েছে। সেখানে তীব্র লড়াই চলছে।

সৌদি আরব সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এরপরও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় হুতিরা সৌদি আরবকেও একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। গতকালও সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উপকণ্ঠে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার দাবি করেছে হুতিরা।

হুতিদের সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদের উপকণ্ঠে এবং কুরাইশ এলাকায় সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে। এতে ওই অবকাঠামোয় আগুন ধরে যায়।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুতিদের ওপর ৫০টি হামলা চালিয়েছে—এ অভিযোগ তোলার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টাহামলা হবে বলেও জানিয়েছে হুতিরা। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল রপ্তানি নিয়ে আগে থেকেই চাপে আছে সৌদি আরব। কারণ, যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ আছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ কমেছে, বেড়েছে দাম। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে হুতিদের মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জ।