এই ইলাস্ট্রেশনটিতে প্রতীকীভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার সামনে দাবার ঘুঁটি দেখা যাচ্ছে ছবি: রয়টার্স
এই ইলাস্ট্রেশনটিতে প্রতীকীভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার সামনে দাবার ঘুঁটি দেখা যাচ্ছে ছবি: রয়টার্স

তেহরান আসলে কী প্রস্তাব দিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের তথ্য কেন ভুল বলছে ইরান

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান কী জবাব দিয়েছে, তা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে ইরানের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে বলেছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটির তথ্যে উল্লেখযোগ্য ভুল আছে।

যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে শান্তিচুক্তির জন্য এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে একাধিক দফায় পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা একমত হতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে ইরানের কাছে ১৪ দফার প্রস্তাব পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান সে প্রস্তাবের বিপরীতে জবাব দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের উচ্চ মাত্রার ইউরেনিয়ামের কিছু অংশের মাত্রা কমিয়ে আনা এবং অবশিষ্ট অংশ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে সূত্রের বরাতে তাসনিম নিউজ বলেছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। গতকাল রোববার রাতে ওই সূত্র বলেছে, পারমাণবিক উপকরণের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটি যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা সঠিক নয়।

ইরানের প্রস্তাবিত নথিতে আসলে কী আছে, তা উল্লেখ করেছে ওই সূত্র। তাসনিম নিউজকে ওই সূত্র বলেছে, ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন করে আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তাসহ আরও বেশ কিছু দাবি করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক সমঝোতা কাঠামোর মধ্য থেকে এ বিষয়গুলো সুরাহা করতে বলা হয়েছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সব দিক থেকে যুদ্ধের অবসান জরুরি। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রটি আরও বলেছে, প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষরের পরপরই ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

সূত্র আরও বলেছে, ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে ইরানি তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েও ইরান জোর দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সম্পদবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওএফএসি। ওই ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রাথমিক সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার ওপরও জোর দিয়েছে ইরান।