
ইসরায়েলের আরাদ, দিমোনা ও তেল আবিব শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া লেবানন সীমান্তে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলায় এক ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৯২ জন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আনা হয় ৩০৩ জনকে। ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরাদ শহরে গতকাল শনিবারের হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরটির কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে গতকাল কাছাকাছি সময়ে দিমোনা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬৪ জন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত ব্যক্তিদের শরীরে জখম হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, হামলার সময় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘বিশেষ বা অপরিচিত’ কোনো ঘরানার না হওয়া সত্ত্বেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন, দিমোনা ও আরাদ—উভয় শহরেই ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়। এর ফলে কয়েক শ কেজি ওজনের ওয়ারহেডসহ দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে।’
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইরান জানিয়েছে, দেশটির নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে দিমোনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামলার পর তিনি আরাদ শহরের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন। নেতানিয়াহু এ ঘটনাকে শহরটির জন্য ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ রোববার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবে একজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। আয়ালোন হাইওয়ে ও পার্শ্ববর্তী রামাত গান শহরসহ ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্য ইসরায়েলের পেতাহ তিকভা শহরেও একটি ভবন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে লেবানন থেকে ছোড়া রকেট হামলায় আজ একজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
কয়েকটি গাড়িতে রকেটটি আঘাত হানে। পরে একটি গাড়ির আরোহীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রকেটের ‘সরাসরি আঘাতে’ দুটি গাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা গেছে।
তবে হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওফের মস্কোভিৎজ নামের ওই ব্যক্তি লেবানন থেকে ছোড়া ট্যাংক–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন। তিনি একটি কৃষিখামারের ব্যবস্থাপক ছিলেন।