আলজেরিয়া হঠাৎ করেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের কথা উল্লেখ করে গতকাল বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
তবে ঠিক কোন ঘটনার কারণে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হলো, তা নির্দিষ্ট করে বলেনি আলজেরিয়া।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আলজেরিয়ার এ সিদ্ধান্ত সাময়িক হবে বলে প্রত্যাশা তাদের। দুই দেশের সম্পর্ক ও অভিন্ন স্বার্থরক্ষায় আবুধাবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আলজেরিয়া ও আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময় আমিরাতের তীব্র সমালোচনা করা হয়। আবুধাবি আঞ্চলিক বিভেদ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও আমিরাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সেগুলো আর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সব জায়গা তারা নষ্ট করে ফেলেছে।
আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম আলজেরিয়ার জনগণের প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রদ্ধা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে বন্ধন, তা নিয়েও আমরা গর্বিত। বিশেষ করে আমিরাতে বসবাসরত আলজেরীয় সম্প্রদায় ও আলজেরীয় পর্যটকদের মাধ্যমে এ বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।’
তবে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সেগুলো আর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সব জায়গা তারা নষ্ট করে ফেলেছে।
এদিকে আলজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে আরব আমিরাতের নিবন্ধিত সামরিক ও বেসামরিক সব উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেবে আলজেরিয়া। তবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আলজিয়ার্সে যাতায়াতকারী আমিরাতের বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলজেরিয়া ও আরব আমিরাতের অবস্থান ভিন্ন। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধী। অন্যদিকে আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ও আরব আমিরাত ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান ভিন্ন। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধী। অন্যদিকে আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ও আমিরাত ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
পশ্চিম সাহারা নিয়ে কয়েক দশক ধরে চলমান উত্তেজনায়ও দেশ দুটির অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমিরাত মনে করে, পশ্চিম সাহারা অঞ্চলটি মরক্কোর অংশ এবং তারা মরক্কোর এ দাবিকে সমর্থন করে। এমনকি ওই এলাকায় আমিরাতের একটি কনস্যুলেটও (কূটনৈতিক কার্যালয়) রয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইরত পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে আলজেরিয়া।
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের স্বার্থ ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছে আমিরাত। অন্যদিকে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর আলজেরিয়ার সঙ্গে দেশটির দক্ষিণের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেবউন গত বছর বলেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশ ছাড়া বাকি সব দেশের সঙ্গেই তাঁর দেশের সম্পর্ক খুব ভালো। তিনি সরাসরি সেই দেশের নাম না বললেও ইশারা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দিকে।
তেবউন সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্ককে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তবে নাম না নেওয়া ওই দেশটির বিরুদ্ধে তিনি আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলজেরিয়া আরব আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে সই হওয়া বিমান চলাচল চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে।