২১ ফুট সাড়ে ৭ ইঞ্চি লম্বা, আর ওজন প্রায় ৯৪ কেজি—প্রথম দেখায় যে কেউ এটিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ভেবে ভুল করতে পারেন। কিন্তু ভুল ভাঙবে যখন দেখবেন এর নিখুঁত নিব থেকে চুইয়ে পড়ছে কালো কালি!
যুদ্ধবিগ্রহের খবরের আড়ালে এবার এক অভিনব বিশ্ব রেকর্ড হলো ইরাকে। দেশটির রাজধানী বাগদাদের একজন শিক্ষাবিদ তৈরি করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বলপেন কলম, যা নাম লিখিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
শিক্ষাবিদ ইয়াহিয়া হামদানের এই অনন্য কীর্তির খবর ২৪ জুন প্রকাশ করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ।
ইয়াহিয়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে বিপুলসংখ্যক স্কুলশিক্ষার্থী ও সহকর্মী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বলপেন কলম উন্মোচন করেন। বিশাল আকৃতির কলমটির দৈর্ঘ্য ২১ ফুট সাড়ে ৭ ইঞ্চি, ওজন ৯৪ কেজি।
বাগদাদের আল-রাকেইয়া স্কুলের নির্বাহী পরিচালক ইয়াহিয়া হামদান বলেন, কলম শক্তির প্রতীক। কলমের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি এ রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করেন।
এই শিক্ষাবিদ আরও বলেন, ‘আমার কাছে কলম শুধু লেখার একটি উপকরণ নয়; এটি এমন একটি মাধ্যম, যা কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়। কলম জ্ঞান, শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’
সাধারণ একটি কলম তৈরি করতে যে উপকরণ লাগে, প্রায় একই ধরনের উপকরণ দিয়ে ইয়াহিয়া তাঁর রেকর্ড গড়া কলমটি তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কলম ভালোবাসি এবং অনেক কলম সংগ্রহ করেছি। তা ছাড়া আমি ইরাকের সন্তান—এই মেসোপটেমিয়া ও সুমেরীয় অঞ্চলই হলো পৃথিবীর বুকে লেখার আদি জন্মভূমি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কলমটি তৈরি করার পেছনে আমার উদ্দেশ্য ছিল, আমাদের এই প্রাচীন গৌরবময় ইতিহাসকে আধুনিক এক অর্জনের সঙ্গে সুতায় বেঁধে দেওয়া।’
ইয়াহিয়ার কলমটি প্লাস্টিক ও ধাতু দিয়ে তৈরি। সাধারণ বলপেনের মতো মাথায় একটি বল মেকানিজম রয়েছে এটির। ফলে সাধারণ কলমের মতোই এটি দিয়ে লেখা যায়। ইয়াহিয়া নিজেই এত বড় কলমের উপযোগী করে বিশেষ ধরনের কালিও তৈরি করেছেন।
এই শিক্ষাবিদ বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এ কলমের জন্য কালি তৈরি করা। সাধারণ কলমে খুব অল্প কালি ব্যবহার হয়। কিন্তু এত বড় একটি কলমের জন্য এমন কালি দরকার, যার ঘনত্ব ও প্রবাহ সঠিক হবে এবং বল মেকানিজমও ঠিকভাবে কাজ করবে। শুধু বড় কলম বানানোই নয়, সেটি দিয়ে কার্যকরভাবে লিখতে সক্ষম হওয়াও ছিল গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এদিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও রেকর্ড গড়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন ইয়াহিয়া।