
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনার প্রসঙ্গ নিয়ে গতকালই উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপ হওয়ার কথা।
তেহরান জানিয়েছে, তারা এখন একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। আর আলোচনায় ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পাকিস্তান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী তেহরানে গতকাল তাদের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আসিম মুনিরকে গালিবাফ বলেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সৎ নয়। ইরান কখনো তার জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
আসিম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, ২৪ ঘণ্টার আলোচনায় একটি চূড়ান্ত সমঝোতার পথে ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতি হয়েছে। ইরানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গতকাল আসিম মুনির গতকাল পাকিস্তানে ফিরেছেন।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ভারত সফরে থাকা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এমনকি আমি যখন এখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, তখনো কিছু কাজ চলছে। আজ (গতকাল) পরবর্তী সময়ে, আগামীকাল অথবা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের কিছু বলার থাকতে পারে, এমন একটি সম্ভাবনা রয়েছে।’
আল–জাজিরা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল রাতে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে ইরান প্রসঙ্গ নিয়ে ফোনে আলোচনা করার কথা। তবে গতকাল রাত সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ট্রাম্পের ফোনালাপের বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই সপ্তাহে বিরোধ কমার বিষয়ে একটি প্রবণতা দেখা গেছে জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘তবে এমন কিছু বিষয় এখনো রয়ে গেছে, যা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করা প্রয়োজন। আগামী তিন বা চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর তিন মাস পূর্ণ হতে চলেছে। যুদ্ধের ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায় গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার সরাসরি বৈঠক হয়। তবে তাতে কোনো সমঝোতা হয়নি। এর পর থেকে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান।
বর্তমানে মূলত ইরানের প্রস্তাবিত ১৪-দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা চলছে। ইরান এই ১৪ দফাকে আলোচনার প্রধান কাঠামো হিসেবে ধরে এগোচ্ছে। উভয় পক্ষ এ প্রস্তাব নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে।