মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেজেছেন এক বিক্ষোভকারী। তাঁর হাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আদলে একটি পুতুল। শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেজেছেন এক বিক্ষোভকারী। তাঁর হাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আদলে একটি পুতুল। শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে

ইসরায়েলের রাস্তায় হাজারো মানুষ, ইহুদি-আরব সরকার গঠনের দাবি

ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী ও লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করে হাজারো মানুষ তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছেন। পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৬৭ আসন পাওয়া নেতানিয়াহু বিরোধী ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত হয়ে জোট সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় দুই হাজার মানুষ জড়ো হন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। যেমন—‘ইহুদি ও আরবরা একে অপরের শত্রু হতে চায় না’, ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, সম্প্রীতির পক্ষে’। বিক্ষোভকারীদের হাতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিরোধী বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডও ছিল।

হাবিমা স্কয়ার থেকে বিক্ষোভকারীরা রাবিন স্কয়ারে গিয়ে বিক্ষোভ শেষ করেন। সেখানে তাঁরা ঢোল বাজান এবং বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, ‘পরিবর্তনের আনার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে’ ও ‘সবার জন্য সমতা’। এ ছাড়া ‘অংশীদারত্ব ও সমতার মধ্য দিয়ে আমরা সরকার পরিবর্তন করব’—এমন স্লোগানও দেওয়া হয়।

ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত হয়ে জোট সরকার গঠনের দাবিতে শনিবার জেরুজালেমেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। স্ট্যান্ডিং টুগেদার নামের একটি গোষ্ঠী ইসরায়েলজুড়ে এসব বিক্ষোভের আয়োজন করে। একই দাবিতে গত বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলের হার্জলিয়া শহরে বিক্ষোভ হয়েছিল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিরোধী বিক্ষোভে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা। শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে

ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৮ অক্টোবর। তবে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কোনো দল বা জোটই এককভাবে ৬১ আসন পায়নি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট পেয়েছে ৫৩ আসন। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি। আর আরব দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১৯টি আসন।

ফলে আইজেনকটের জোট যদি আরব দলগুলোর সঙ্গে হাত মেলায়, তবে তাদের পক্ষে নেতানিয়াহুকে হটিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব। এ নিয়ে নেতানিয়াহু বিরোধী ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর বৈঠকের খবরও পাওয়া গেছে। এমনকি ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

এ ছাড়া ইসরায়েলের স্পিকার আমির ওহানাকে নতুন পার্লামেন্টের শুরুর দিনই পদ থেকে সরানোর জন্য নেতানিয়াহু বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট নিয়ে বিরোধীদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহু বিরোধী চার দলের মধ্যে তিন দল—ইয়াশার, বি’য়াচাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু আরব দলগুলোকে নিয়ে জোট সরকার গঠনে আগ্রহী নয়। ফলে আরব দলগুলোর ১৯ আসন যুক্ত করে সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৬৭ হলেও বাস্তবে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বাসভবনের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা। শনিবার তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে।

পাল্টা বিক্ষোভ নেতানিয়াহু সমর্থকদের

এদিকে শনিবার হাবিমা স্কয়ারে নেতানিয়াহুর প্রায় ২০০ জন সমর্থক বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের দাবি, আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে। বিক্ষোভকারীদের ‘ইহুদি রাষ্ট্র’, ‘সন্ত্রাসীদের গাজায় পাঠাও, সরকারে নয়’—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিক্ষোভে কয়েকজন তরুণ বর্ণবাদী স্লোগানও দেন। তাঁদের বলেন, ‘তোমাদের গ্রাম পুড়ে ছাই হোক।’

বিক্ষোভে রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। সেখানে উপস্থিত হয়ে বিদায়ী পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেন, ‘আমরা কাউকে নির্বাচন চুরি করতে দেব না।’ তাঁর পাশে একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ইহুদি রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের অধিকার আরবদের দেওয়া হবে না।’