দখলকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর তাইবেহর কাছে একটি ফাঁড়ির পাশে আগুন নেভাচ্ছেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। ১৭ জুলাই ২০২৬
দখলকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর তাইবেহর কাছে একটি ফাঁড়ির পাশে আগুন নেভাচ্ছেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। ১৭ জুলাই ২০২৬

পশ্চিম তীরের শেষ খ্রিষ্টান শহরটিও এখন ইসরায়েলিদের নিশানায়

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের একমাত্র ও শেষ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর তাইবেহ। একসময় নিরাপদ ও শান্ত হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক এই শহরটির বাসিন্দারা এখন চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। গত কয়েক বছরে শহরটিতে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, জমি দখল ও লুটপাট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

রোলান্ড বাসির নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রায় ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে শহরের প্রান্তে একটি পাথরখনি ও কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমাগত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হয়েছে। শুধু রোলান্ড নন, স্থানীয় ব্যক্তিদের কৃষিজমি, জলপাইবাগান ও পানির কূপগুলোও একে একে দখল করে নিচ্ছে ইসরায়েলিরা।

আতঙ্ক এখন স্থানীয় ব্যক্তিদের নিত্যসঙ্গী। রোলান্ডের স্ত্রী সান্দ্রা বাসির আত্মরক্ষার্থে ঘরে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখেন। রাতে ঘুমানোর আগে দরজা বন্ধ করেছেন কি না, বারবার পরখ করে দেখেন, পাহারার জন্য রেখেছেন কুকুরও। ভয়ে তাঁদের সাত বছরের ছেলের বাইরে খেলাধুলা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী তাইবেহ ব্রুয়ারির (বিয়ার উৎপাদন) ব্যবসাও হুমকির মুখে। এর পরিচালক মাদিস খৌরি জানান, তাঁদের আয় আগের চেয়ে ৮০ শতাংশ কমে গেছে। বসতি স্থাপনকারীরা তাঁদের পানির প্রধান উৎস ‘আইন সামিয়া’ ঝরনা এবং ব্যক্তিগত খামারও দখল করেছে। ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে থাকা ‘এলাকা বি’-তেও নতুন ফাঁড়ি বসিয়ে জমি দখল করছে ইসরায়েলিরা।

হামলা ঠেকাতে ৯ আগস্ট ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাইবেহকে ‘সামরিক অভিযানের আওতাধীন এলাকা’ ঘোষণা করলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, এই আদেশের ফলে শহরটি আরও একঘরে হয়ে পড়েছে। বসতি স্থাপনকারীরা ঠিকই নির্বিঘ্নে তাদের হামলা ও দখলদারি চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ বা প্রশাসন ডাকলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ভয়, নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক ধসের কারণে গত দুই বছরে অন্তত ১৫টি পরিবার শহর ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে পর্যটনও।

তবে ক্রমাগত হামলা ও সব হারানোর ভয় থাকলেও নিজেদের মাটি আঁকড়ে থাকতে চান অনেকে। তাইবেহ শহরের মেয়র সুলেইমান খৌরিয়াহ বলেন, ‘প্রভু যিশুখ্রিষ্ট যখন এই শহরে হেঁটেছিলেন, তখন থেকেই আমরা এখানে আছি। এটি আমাদের শহর। আমরা এ জায়গা ছেড়ে যাব না। আমাদের মৃত্যু হলেও আমরা এখানেই সমাহিত হব। কারণ, এটি পবিত্র ভূমি।’