
ইরানে এক মাসের কিছুটা বেশি সময়ের ব্যবধানে আবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল শনিবার দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারপন্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ইরান নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র।
এর আগে গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে ওই বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। তখন তেহরান নিরাপত্তা বাহিনী মাঠে নামালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়। ইরানে ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ। যদিও শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ দমনে সফল হয় তেহরান।
‘স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই’
ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ‘হত্যাকারী নেতা’ উল্লেখ করে স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। সেখান থেকে ইরানের ক্ষমতাচ্যূত শাহের নির্বাসিত সন্তান রেজা পাহলভিকে নতুন রাজা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ইরানের শীর্ষ এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসিজ বাহিনীর হয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীদের দিকে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোড়েন বলে এসএনএনসহ দেশটির রাষ্ট্র–পরিচালিত বার্তা সংস্থাগুলোর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে। বিক্ষোভ দমনে প্রায়ই ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করে থাকেন সরকারপন্থী বাসিজ বাহিনীর সদস্যরা।
এ ছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের বেহেশতি ইউনিভার্সিটি ও আমির কবির ইউনিভার্সিটিতে শনিবার বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ করেছেন উত্তর–পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাও। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের আবদানা শহরে বিক্ষোভকারীরা ‘খামেনির মৃত্যু চাই’ ও ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই’ বলে স্লোগান দেন।
ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি
এদিকে ইরান তাদের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি হয়েছে। তবে তা হতে হবে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর অধীনে। আর নিজেদের কাছে থাকা অতি সমৃদ্ধ ৩০০ কেজি ইউরেনিয়াম রপ্তানি করতে রাজি নয় তেহরান। ইরানের একাধিক সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র বলেছে, পরমাণু ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, সেখানে কয়েক দিনের মধ্যে মজুত কমানোর এ প্রস্তাব দেবে ইরান। তেহরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আছে। এই মাত্রা পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাত্রার কাছাকাছি। তবে তারা ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধতার মাত্রা ২০ শতাংশের নিচে নিয়ে আনতে চায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তাঁদের দেশের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা বন্ধের দাবি করেনি যুক্তরাষ্ট্র, বরং নজর দেওয়া হচ্ছে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা কমানোর বিষয়ে। দুই বা তিন বছরের জন্য ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে বলে যেসব খবার সামনে আসছে, তা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন আব্বাস আরাগচি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দ্বিতীয় দফায় বৈঠক হয় ওয়াশিংটন ও তেহরানের। দুই পক্ষই আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানালেও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনা সমাগম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান ১০–১৫ দিনের মধ্যে চুক্তি না করলে দেশটিতে হামলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।