গত শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও দেশটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শান্তি বৈঠকের আগে সাক্ষাৎ করেন
গত শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও দেশটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শান্তি বৈঠকের আগে সাক্ষাৎ করেন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হতে পারে

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্ঘুম ও উৎকণ্ঠার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। তবে আলোচনায় অংশ নেওয়া ১১টি সূত্র জানিয়েছে, দুপক্ষের মধ্যে সংলাপ এখনো চলছে।

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার চার দিন পর অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক দশকের বেশি সময় পর প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের মুখোমুখি আলোচনা। পাশাপাশি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল—একটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের জন্য, একটি ইরানের জন্য এবং একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য। বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী ছিল পাকিস্তান।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এর মধ্যে অন্যতম ছিল হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট। ইরান কার্যত এই পথটি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে আবার সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার দাবি জানায়। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও আলোচনার বড় অংশ ছিল।

দুটি সূত্র বলেছে, হোটেলের মূল কক্ষে মুঠোফোন নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিনিধিরা বিরতির সময় বাইরে গিয়ে নিজ নিজ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এর মধ্যে অন্যতম ছিল হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট। ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র এটিকে পুনরায় সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করার দাবি জানায়। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও আলোচনার বড় অংশ ছিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গতকাল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে

পাকিস্তানি এক সরকারি সূত্র জানায়, আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে বড় ধরনের অগ্রগতির আশা তৈরি হয়েছিল এবং একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল দুপক্ষ। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

আরেকটি সূত্র বলেছে, আলোচনায় দুপক্ষ প্রায় ৮০ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেই আলোচনা ভেস্তে যায়।

দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র বলেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল গম্ভীর ও অনমনীয়। পাকিস্তান পরিস্থিতি কিছুটা সহজ করার চেষ্টা করলেও কোনো পক্ষই উত্তেজনা কমাতে রাজি হয়নি।

একপর্যায়ে আলোচনার পরিবেশ কিছুটা হালকা হয়

তবে একই সঙ্গে ওই ইরানি সূত্রগুলো জানায়, রোববার ভোরের দিকে পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হয় এবং এক দিন সময় বাড়িয়ে আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল।

এরপরও মতবিরোধ থেকে গেছে। একটি মার্কিন সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি চুক্তি নিশ্চিত করা, যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। বিষয়টি ইরান যথাযথভাবে বোঝেনি বলে তাদের ধারণা। অন্যদিকে ইরানের প্রধান উদ্বেগ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে আস্থার সংকট।

শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একাধিক বাধা থাকলেও উভয় পক্ষেরই উত্তেজনা কমানোর কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধকে ভালোভাবে নেয়নি মার্কিন নাগরিকদের বড় একটি অংশ। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানের শাসনব্যবস্থা বদলাতে পারবে কি না—তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে

গোপনীয়তা বজায় রেখে সূত্রগুলোর বরাতে পাওয়া এসব তথ্য বৈঠকের অভ্যন্তরীণ গতিপ্রকৃতি, পরিবেশের পরিবর্তন ও সম্ভাব্য সমঝোতার কাছাকাছি গিয়েও কীভাবে আলোচনা ভেঙে যায়—তা তুলে ধরেছে।

এই প্রতিবেদনের মন্তব্যের জন্য ইরান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আজ সকালে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’ তবে এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

এক মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ইসলামাবাদ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কখনোই বদলায়নি। তিনি বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। আর যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থানে অটল।’ একটি সমঝোতার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।

উত্থান–পতন

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এক কূটনীতিক বলেন, ভ্যান্স ইসলামাবাদ ছাড়ার পরও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানও তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদান চালিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা এখনো চলছে।

এক উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সবার কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে গেলে আসিম মুনির ও ইসহাক দার মধ্যাহ্নবিরতির ব্যবস্থা করে দুই পক্ষকে আলাদা কক্ষে নিয়ে যান।

শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একাধিক বাধা থাকলেও উভয় পক্ষেরই উত্তেজনা কমানোর কিছু কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধকে ভালোভাবে নেয়নি মার্কিন নাগরিকদের বড় একটি অংশ। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ইরানের শাসনব্যবস্থা বদলাতে পারবে কি না—তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের জ্বালানি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপে পড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ ছাড়া যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইরানের অর্থনীতিও আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১১ এপ্রিলের আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল

ইসলামাবাদে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় খুঁজতে একত্র হয়েছিল। এর আগে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে ছয় সপ্তাহের সংঘাত থেমেছিল, যাতে হাজারো মানুষ নিহত হয় এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়।

পশ্চিমা দেশগুলো ও ইসরায়েলের ধারণা, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়—এটাই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের মূল কারণ। ইরান অবশ্য এ অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করে আসছে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রস্তাব দিয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, সব বড় পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো মেনে নিতে হবে, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে হবে।

অন্যদিকে ইরানের দাবি ছিল—স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের স্বীকৃতি এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

১১টি সূত্রের মধ্যে চারটি সূত্র জানিয়েছে, একপর্যায়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতার কাঠামো প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ, পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইরানের জব্দ অর্থের পরিমাণ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তা ভেঙে যায়।

ইরানি সূত্রগুলো জানায়, ইসলামাবাদে বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে ভ্যান্স, গালিবাফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে।

একটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, ‘(বৈঠকে) উত্থান–পতন ছিল। উত্তেজনা ছিল। মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে, আবার ফিরে এসেছে।’

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা পুরো রাত দুপক্ষের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন।

একাধিক সূত্র জানায়, হোটেলের কর্মীদের ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে এবং কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে কাজ চালাতে হয়েছিল।

দুটি ইরানি সূত্রের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় উঠলে আলোচনার সুর তীব্র হয়ে ওঠে। ইরানের প্রতিনিধি আরাগচি প্রশ্ন তোলেন—গত জেনেভা বৈঠকে যখন কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তী সময়ে হামলা হয়েছিল। এ অবস্থায় কীভাবে আস্থা রাখা সম্ভব?

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার (মাঝে) ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির (ডানে)

এর আগে জেনেভায় আলোচনার দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হয় বলে সূত্রগুলো জানায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ, নিষেধাজ্ঞা এবং চুক্তির পরিসর নিয়েও ভিন্ন অবস্থানে ছিল। ওয়াশিংটন মূলত পারমাণবিক ইস্যু ও হরমুজের বিষয়ে গুরুত্ব দিলেও তেহরান একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক সমঝোতা চেয়েছে।

এক উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সবার কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে গেলে আসিম মুনির ও ইসহাক দার মধ্যাহ্নবিরতির ব্যবস্থা করে দুই পক্ষকে আলাদা কক্ষে নিয়ে যান।

আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব

আলোচনার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বারবার মূল বৈঠক কক্ষ ও নিজস্ব কক্ষের মধ্যে যাতায়াত করেন বলে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান।

মার্কিন এক সূত্র বলেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েই আলোচনায় অংশ নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ আলোচনার বিষয়ে সতর্ক ছিল। কারণ, তাদের ধারণা ইরান সময়ক্ষেপণ কৌশল ব্যবহার করে এবং তারা ছাড় দিতে অনাগ্রহী।

শেষ পর্যন্ত বৈঠক ভেঙে গেলেও ভ্যান্স সাংবাদিকদের সামনে এসে বলেন, আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি—এটাই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। ইরান এটি গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’