চা-ওয়ালার নীল চোখের জাদু

নীল চোখের চা-ওয়ালা আরশাদ খানের এই ছবিটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন শখের আলোকচিত্রী জিয়া আলী। ছবিটি তাঁর টুইটার থেকে নেওয়া।
নীল চোখের চা-ওয়ালা আরশাদ খানের এই ছবিটি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন শখের আলোকচিত্রী জিয়া আলী। ছবিটি তাঁর টুইটার থেকে নেওয়া।

আরশাদ খান পাকিস্তানের ইসলামাবাদের পেশোয়ার চকের এক চা-ওয়ালা। কিন্তু এই চা-ওয়ালাকে নিয়েই এখন সরগরম দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এই চা-ওয়ালা এমন কী করেছেন যে তাঁকে নিয়ে এত হইচই? না, তিনি কিছু করেননি, করেছে তাঁর নীল চোখ। নীল চোখের চা-ওয়ালা আরশাদের ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন জিয়া আলী নামের এক শৌখিন নারী আলোকচিত্রী। আর এতেই কপাল খুলেছে! চা-ওয়ালা এখন হয়ে উঠেছেন মডেল, মানে ফ্যাশনওয়ালা।

এনডিটিভি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, আরশাদের ছবিটি টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভালো সাড়া ফেলেছে; অনেকেই চা-ওয়ালা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। নীল চোখের চা-ওয়ালাকে নিয়ে পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই উন্মাদনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরেও ঠাঁই করে নিয়েছে।

দুনিয়া নিউজ নামের স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের আরশাদ বলেছেন, ২৫ বছর ধরে তিনি ইসলামাবাদে বাস করছেন। তাঁরা ১৭ ভাইবোন। তিনি এই চা দোকানে যোগ দিয়েছেন মাত্র কয়েক মাস আগে। টুইটার, ইনস্টাগ্রামে তাঁকে নিয়ে কী আলোচনার ঝড় বইছে, তিনি তা জানেন কি না, তা জানতে চাইলে বলেন, এসবের নাম তিনি শোনেননি বা এগুলোর কাজ কী, সেটা সম্পর্কেও তাঁর কোনো ধারণা নেই। তবে খ্যাতি পেয়ে তিনি আনন্দিত বলে জানালেন।

টেলিভিশন চ্যানেলকে আরশাদ বলেন, রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়ে তাঁর ভালো লাগছে। তবে কাজের সময় যখন বহু লোক জড়ো হয়ে ছবি তুলে তাঁর সময় নষ্ট করেন, তখন তিনি খুবই বিরক্ত বোধ করেন বলে জানালেন। তিনি জানালেন, দৈনিক দেড় শতাধিক লোক তাঁর সঙ্গে ছবি তোলেন।

পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন সরগরম চা-ওয়ালা আরশাদ খানকে নিয়ে।

তবে খ্যাতির সুফল পেতে শুরু করেছেন আরশাদ। ফিটইন নামের একটি অনলাইনভিত্তিক পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের মডেল হওয়ার জন্য তাঁর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের পোস্টে লিখেছে, ‘চা-ওয়ালা তাঁর পেশা পরিবর্তন করছেন। তিনি এখন ফ্যাশনওয়ালা।’

পাকিস্তানের অনলাইন-ভিত্তিক পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফিটইনের মডেল এখন আরশাদ খান। ছবিটি তাদের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।

প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ জন নারী আরশাদের সঙ্গে ছবি তোলেন, এটা তাঁর অনেক ভালো লাগে বলে বেশ খুশি মনেই জানালেন। তিনি আশাবাদী, ভবিষ্যতে আরও মনোযোগ পাবেন আর সেটা তিনি ভালোভাবে কাজে লাগাতে চান।

চা-ওয়ালা যখন ফ্যাশন-ওয়ালা। ছবিটি পাকিস্তানের অনলাইন-ভিত্তিক পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফিটইনের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।

শখের আলোকচিত্রী জিয়া আলী নীল চোখের চা-ওয়ালা আরশাদের ছবিটি ১৪ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন। সেটি যে এত সাড়া ফেলবে, তিনি নিজেও তা বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি এতটা প্রত্যাশা করিনি। এটা বিস্ময়কর ব্যাপার।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দাবির মুখে জিয়া আলী ওই চা-ওয়ালার আরও বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন।