
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১৭০ জন। পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই মসজিদটি শিয়া সম্প্রদায়ের।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, মসজিদের কার্পেটে রক্তমাখা মরদেহ পড়ে আছে। চারদিকে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে ভাঙা কাচ, ধ্বংসাবশেষ। সেখানে আতঙ্কিত মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে।
ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘খাদিজাতুল কুবরা ইমামবারগাহ’–এর বাগানে আরও ডজনখানেক আহত মানুষকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ওই সব মুসল্লিরা সাহায্য চেয়ে চিৎকার করছিলেন।
কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত রাজধানী ইসলামাবাদে সাধারণত বোমা হামলার ঘটনা বিরল। তবে গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে চরমপন্থী সহিংসতার ঘটনা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার ইরফান মেমন এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। মোট ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। হাসপাতালে আনা আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাকারী যখন মসজিদের ফটকে পৌঁছায়, তখন তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এর পরপরই তিনি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।
২৪ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার পাকিস্তানে সুন্নি অনুসারী বেশি। সেখানে শিয়া মুসলিমরা সংখ্যালঘু। এর আগেও তারা বিভিন্ন সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সুন্নি কট্টরপন্থী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছিলেন। পাকিস্তান জানিয়েছিল, একজন আফগান নাগরিক ওই হামলা চালিয়েছিল। তবে কোনো গোষ্ঠী তখন সেই হামলার দায় স্বীকার করেনি।