ইমরান খান (বাঁয়ে) ও পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার
ইমরান খান (বাঁয়ে) ও পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার

ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ আটকাতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছে পাকিস্তান সরকার

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ ‘আইনের সীমারেখা অতিক্রম করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার।

গতকাল মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর–সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করবে সরকার।

এক ভিডিও বার্তায় তারার বলেন, কারাগার কর্তৃপক্ষ ও ইসলামাবাদ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের কিছু বিষয়ে পরামর্শ করা হয়েছে। বিশেষ করে, ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর নির্দেশের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আইন পর্যালোচনা করার পর কর্তৃপক্ষের মত হলো, কারাগারে দণ্ডিত একজন ব্যক্তিকে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যেতে পারে, এ আদেশটি সেই আইনি সীমারেখার মধ্যে পড়ে না—বলেন আইনমন্ত্রী।

সরকার এ আদেশের যথাযথ সংশোধন চেয়ে আবেদন করবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী, যেন সরকারি কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে ইমরান খানের মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো যায়।

সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশ শুধু ইমরান খানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, নাকি এর প্রভাব দেশের সব বন্দীর ওপর পড়বে—এ বিষয়ে সরকার স্পষ্ট হতে চায়।
আজম নাজির তারার, পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বা আদালত যেভাবে উপযুক্ত মনে করবেন, সেভাবে অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদেরও মেডিক্যাল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

একজন কারাবন্দীকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের বৃহত্তর প্রভাব নিয়েও আইনমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সারা দেশে হাজার হাজার বন্দী নানা ধরনের জটিলতা ও রোগে ভুগছেন। আইনে প্রথমে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের বিধান আছে। কোনো বন্দীর চিকিৎসা কারাগারের ভেতরে হবে, নাকি বাইরে হবে—তা ওই বোর্ড নির্ধারণ করবে। কোনো বন্দীকে যদি কারাগারের বাইরে নিয়ে যেতে হয়, সে ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ ধরনের চিকিৎসাসুবিধা রয়েছে।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে সরকারি হাসপাতালগুলো সক্ষম নয়—এমন কোনো প্রমাণ বা তথ্য-উপাত্ত পাওয়া না গেলে এ ধরনের ব্যবস্থা (চিকিৎসার জন্য বন্দীকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া) করা যাবে না বলে জানান আইনমন্ত্রী। বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের এ আদেশ শুধু ইমরান খানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, নাকি এর প্রভাব দেশের সব বন্দীর ওপর পড়বে—এ বিষয়েও সরকার স্পষ্টতা চায়।’

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সুপ্রিম কোর্টের আদেশ নিয়ে পিটিআই ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দলটি তাদের নেতার জন্য ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডিন্যান্স (এনআরও) অর্থাৎ গোপন সমঝোতা চাইছে।