স্টিভেন লয়ার ও তাঁর পার্টনার লম্বা সময়ের জন্য বাহামা দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তাঁদের পোষা টিয়া পাখিটি নিয়ে, সেটিকে কোথায় রেখে যাবেন।
মার্কিন এ জুটি কোনোভাবেই তাঁদের প্রিয় পোষাপাখি ‘বেবে’কে রেখে যেতে চান না। বেবের বয়স ছয় বছর, তাঁরা ছাড়া সেটিকে দেখাশোনার কেউ ছিল না।
শেষ পর্যন্ত স্টিভেন পোষা টিয়া পাখিটিকে সঙ্গে নিয়েই বাহামা দ্বীপপুঞ্জে বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। শুরু হয় বেবের জন্য কাগজপত্র তৈরির কাজ।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি হওয়ার পর স্টিভেনের মাথায় নতুন একটি ভাবনা আসে। তাঁরা যখন বাহামা দ্বীপপুঞ্জে স্বচ্ছ নীল পানির নিচের রঙিন জগৎ দেখতে বের হবেন, তখন বেবে কী করবে। তিনি প্রিয় পাখিকেও একই আনন্দ দিতে চাইছিলেন। এ ভাবনা থেকেই তাঁর মাথায় অদ্ভুত এক পরিকল্পনা আসে। তিনি বেবের জন্য সাবমেরিনের মতো দেখতে একটি অতি ক্ষুদ্র জলযান বানিয়ে ফেলেন।
স্টিভেন নিজের বানানো ক্ষুদ্র সাবমেরিনটির নাম দেন ‘বেবোস্ফিয়ার’। সেটিতে চড়ে পাখিটি তিন ফুট পর্যন্ত পানির নিচে গিয়ে রঙিন মাছের খেলা দেখতে পারে।
ক্ষুদ্র ওই জলযানের ভেতরে বসে বাহামা দ্বীপপুঞ্জে স্টিভেনদের সঙ্গে পানির নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে টিয়া পাখিটির এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ৪৪ লাখের বেশি মানুষ ওই ভিডিও দেখেছেন। শত শত মানুষ মন্তব্য করেছেন; কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, কেউ কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ পাখিটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি কেউ কেউ ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
পানির নিচে ঘুরে বেড়াতে পাখিটির কেমন লেগেছে, এটা জানতে চাইলে স্টিভেন বলেন, ‘আমি আমার পাখিকে চিনি। সে যখন নার্ভাস থাকে, তখন কেমন দেখায়, সেটাও জানি। ওই ভিডিওতে সে কৌতূহলী ছিল। সে স্বেচ্ছায় টিউবের ভেতরে ঢুকেছিল।’
পরে আরেকটি ভিডিওতে স্টিভেন বলেন, বেবের পানির নিচে বেড়ানোর ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়।