আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার ক্যালিতে পিচিনচা সামরিক ক্যান্টনে দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম ভাষণ দেন। ৭ আগস্ট, ২০২৬
আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা কলম্বিয়ার ক্যালিতে পিচিনচা সামরিক ক্যান্টনে দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম ভাষণ দেন। ৭ আগস্ট, ২০২৬

ট্রাম্প–সমর্থিত প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের প্রথম দিনেই কলম্বিয়ায় বোমা হামলা

কলম্বিয়ার বিভিন্ন স্থানে গতকাল শনিবার দুটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা কাজ শুরু করার প্রথম দিনেই এসব হামলা হয়েছে। এতে অন্তত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

কট্টর ডানপন্থী নেতা এসপ্রিয়েলা গত শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে শপথ নেন। এর পর তিনি ‘কোনো আপস ছাড়াই মাদক-সন্ত্রাস দমন’ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী বলেছে, ফার্ক গেরিলা গোষ্ঠীর সদস্যরা গতকাল ভোরে ক্যালির কাছে একটি মহাসড়কের টোল বুথ বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। এতে দুজন নিরাপত্তাকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন।

কলম্বিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড গেরিলা কমান্ডার ইভান মোরোদিসকোর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা টোল বুথটির আশপাশের এলাকায় সক্রিয়। সান্তান্দের দে কিলিচাও পৌরসভার মধ্য দিয়ে যাওয়া প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের ওপর ওই টোল বুথটি নির্মাণাধীন ছিল।

মোরোদিসকো এমন একদল বিদ্রোহীর নেতৃত্ব দেন, যারা ২০১৬ সালে ফার্ক ও কলম্বিয়া সরকারের মধ্যে হওয়া ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে।

গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বোমা হামলার নিন্দা জানিয়েছেন দে লা এসপ্রিয়েলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘দেশের অবকাঠামোয় হামলা মানে দেশের অগ্রগতির ওপর হামলা।’

দে লা এসপ্রিয়েলা আরও বলেন, ‘যারা এর জন্য দায়ী, তাদের প্রতি আমার স্পষ্ট বার্তা হলো, তাদের কোনো আশ্রয় দেওয়া হবে না, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং তারা কোনোভাবেই শাস্তি এড়াতে পারবে না।’

‘কেউই শাস্তি এড়াতে পারবে না’

প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে উত্তরাঞ্চলীয় সেসার প্রদেশে গতকাল শনিবার ভোরে আরেকটি বোমা হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন ব্যবহার করে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালানো হলে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এখনো সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে দে লা এসপ্রিয়েলা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা এর জন্য দায়ী, ‘তারা কেউই শাস্তি এড়াতে পারবে না’।

প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক নেতৃত্বে এসেছেন দে লা এসপ্রিয়েলা। তাঁর আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান এখন কলম্বিয়ায় সক্রিয় গেরিলা গোষ্ঠী ও মাদক পাচারকারীদের কঠোর বিরোধিতার মুখে পড়েছে। তিনি প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলের প্রশংসা করেন।

বুকেলের মতো করে দে লা এসপ্রিয়েলাও বড় ধরনের কারাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় কলম্বিয়ায় সক্রিয় গেরিলা গোষ্ঠী ও মাদক পাচারকারীদের ওপর বিমান হামলা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

কলম্বিয়ায় গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা চলার মধ্যেই দে লা এসপ্রিয়েলা দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের এক দশক পরও কলম্বিয়ার কিছু এলাকা ভিন্নমতাবলম্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব গোষ্ঠী বিশ্বব্যাপী কোকেন উৎপাদনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মী রবার্তো সান্দোভাল টোল বুথের পাশের এলাকায় বসবাস করেন। তিনি এএফপিকে বলেন, বোমা হামলার পর ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

রবার্তো সান্দোভাল বলেন, ‘আমরা সবাই আতঙ্কের মধ্যে আছি। পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ। আমরা ভীষণ উদ্বিগ্ন।’

ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সী গৃহিণী সোনিয়া জাপাতার বাড়ির জানালার কাচ বিস্ফোরণের ধাক্কায় ভেঙে বিছানার ওপর ছড়িয়ে পড়ে।

সোনিয়া জাপাতা বলেন, ‘আমি খুবই আতঙ্কিত, খুব ভয় লাগছে।’