
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, বৈঠকে একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে সংলাপের রূপরেখা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সাবেক বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা দিনোরাহ ফিগুয়েরা আট বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গতকাল দেশে ফিরেছেন। এদিনই কারাকাসে জাতীয় পরিষদ ভবনে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় একটি অবাধ ও উন্মুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্য যে পরিকল্পিত প্রক্রিয়া শুরু হবে, এ বৈঠক তার প্রথম ধাপ।’
পেশায় চিকিৎসক দিনোরাহ ফিগুয়েরা ২০১৫ সালে জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৬৫ বছর। ২০১৮ সালে তিনি দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যান। সে সময় ফিগুয়েরা তাঁর দল জাস্টিস ফার্স্টের সহকর্মী ফার্নান্দো আলবানের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। আলবান ওই বছরের অক্টোবর মাসে কারাগারে মারা যান। ফিগুয়েরার দাবি, এ কারণে তিনি হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অভিযান চালিয়ে নিউইয়র্কে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকে ভেনেজুয়েলায় তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করছে।
ভেনেজুয়েলায় ফিরে আসার পর দিনোরাহ ফিগুয়েরা বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো থেকে নিজেকে আলাদা অবস্থানে রাখার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি মাচাদোও ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে আলোচনার জন্য একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের ফিগুয়েরা বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমি পররাষ্ট্র দপ্তরের আমন্ত্রণে এসব চ্যালেঞ্জ...বিশেষ করে একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার দায়িত্ব নিতে এসেছি।’
পরে জাতীয় পরিষদও নিশ্চিত করেছে, হোর্হে রদ্রিগেজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দিনোরাহ ফিগুয়েরা। বৈঠকে তিনি ২০১৫ থেকে ২০২০ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাদের প্রতিনিধির ভূমিকায় অংশ নিয়েছিলেন। হোর্হে রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ভাই।
কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিগুয়েরা গত এপ্রিল মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে একটি স্থিতিশীল, সুশৃঙ্খল ও সুসংহত গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। আর চূড়ান্ত অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু ও বহুদলীয় নির্বাচনই ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ।’