
চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তাকে। নিজের পদকে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য চীনা কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে গতকাল সোমবার বাইমাদাজি অ্যাংওয়াং নামের এই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সোমবার অ্যাংওয়াংকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি কার্যালয়। ফেডারেল তদন্তকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, ভুয়া তথ্য দানসহ নানা অভিযোগ এনেছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে দাপ্তরিক তদন্তকাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি অ্যাংওয়াং নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।
এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা অ্যাংওয়াংকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবারই তাঁকে আদালতে তোলা হয়। বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অ্যাংওয়াং নিউইয়র্ক পুলিশে যোগ দেন ২০১৬ সালে। এনওয়াইপিডির কুইন্স এলাকার কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ইউনিটে কাজ করতেন তিনি। এ সময় তিনি চীনের কনস্যুলেট কর্মকর্তাদের এনওয়াইপিডির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য দেন এবং নিজের অবস্থানের বদৌলতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের আমন্ত্রণ জানান। এক কনস্যুলেট কর্মকর্তাকে তিনি এমনকি এনওয়াইপিডির অভ্যন্তরীণ পরিচালন পদ্ধতি সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহের বিষয়েও বলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক মেরিন কর্মকর্তা অ্যাংওয়াং ২০১৩ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত বাহিনীতে ছিলেন। সেখানে তিনি বেসামরিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন।
সাবেক মেরিন কর্মকর্তা অ্যাংওয়াং ২০১৩ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত বাহিনীতে ছিলেন। সেখানে তিনি বেসামরিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন। এ সময় বেসামরিক কার্যাবলির জন্য নির্ধারিত দলকে বিভিন্ন বিষয়ে কৌশলগত ও পরিচালন-বিষয়ক পরামর্শ দিতেন তিনি। এ সময় তাঁর উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছিল।
তদন্তকারীরা বলছেন, চীনা কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে তাদের নির্দেশনায় কাজ করেছেন অ্যাংওয়াং। নিউইয়র্ক নগরে বসবাস করা তিব্বতিদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তিনি ওই কর্মকর্তাদের সরবরাহ করতেন। একই সঙ্গে তিব্বতের গোয়েন্দা সূত্রগুলোকে শনাক্ত ও তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার কাজটিও তিনি করেছেন। নিউইয়র্কে চীনা কনস্যুলেটের অন্তত দুজন কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি ২০১৮ সাল থেকে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন নির্দেশনা অনুসরণ করতেন তিনি। এ দুই কর্মকর্তাদের একজনকে ‘বস’ হিসেবে সম্বোধন করতে দেখা গেছে তাঁকে।
চীন থেকে সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রকল্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অ্যাংওয়াং বর্তমানে মার্কিন নাগরিক। দ্বিতীয় মেয়াদে পাওয়া ভিসার মেয়াদ পার হয়ে গেলে তিনি চীনে ‘গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন’ মর্মে আশ্রয় আবেদন করেন। নির্যাতিত হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি সে সময় নিজের তিব্বতি জাতিসত্তার পরিচয়কে সামনে আনেন।
অথচ অভিযোগে দেখা যায়, শুরু থেকেই চীনের হয়ে কাজ করেছেন অ্যাংওয়াং। ২০১৮ সালে চীনা কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তাকে ফোনে তিনি বলেন, ‘তাঁদেরকে (চীনা কর্তৃপক্ষকে) জানান যে, পুলিশ বিভাগে তাঁদের একজন রয়েছে।’
এই অভিযোগ সম্পর্কে নিউইয়র্কে চীনা কনস্যুলেট আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের কার্যক্রম প্রকাশ্য, যেখানে নিন্দা করার মতো কিছু নেই। নিউইয়র্কে চীনের কনস্যুলেট জেনারেল আন্তর্জাতিক আইন ও যুক্তরাষ্ট্রের আইন মেনে সব কার্যক্রম পরিচালনা করে।
অ্যাংওয়াংয়ের আইনজীবী জন কারম্যান জানান, গ্রেপ্তারের পর গতকালই অ্যাংওয়াংকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে অন্তরীণ রাখা হয়েছে। তবে তাঁর জামিনের জন্য আবেদন করা হবে।