
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উদারনৈতিক ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে চান। গত নির্বাচনেও তিনি ডেমোক্রেটিক দলের প্রাইমারিতে লড়েছিলেন। সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এসব কথা বলেছেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ম্যাসাচুসেটস থেকে নির্বাচিত সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেনের সঙ্গে দেখা যাবে— এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। আবার কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর সবাই নিশ্চিত ছিলেন বাইডেন প্রশাসনে ট্রেজারি সেক্রেটারি হিসেবে তিনি যোগ দিতে পারেন। কিন্তু তা হয়নি।
সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন তাঁর সদ্য প্রকাশিত বই পারসিস্ট নিয়ে কথা বলেছেন ওই সাক্ষাৎকারে। এ বইয়ে তাঁর রাজনৈতিক কিছু হতাশার কথাও উঠে এসেছে। রাজনৈতিক প্রচার কঠিন এবং এ প্রচারের পর হেরে যাওয়া আরও কঠিন বলে তিনি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
বইয়ে একজন নারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এলিজাবেথ ওয়ারেন। গত বছরের দলীয় প্রাইমারিতে জো বাইডেন ও অপর উদারনৈতিক নেতা বার্নি স্যান্ডার্সের একান্ত সমর্থকদের জোয়ারে নিজের হেরে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ডেমোক্রেটিক দল ও মার্কিন সমাজের উদারনৈতিকদের মধ্যে বার্নি স্যান্ডার্স ও এলিজাবেথ ওয়ারেন জনপ্রিয় নাম। গত বছরে দলীয় প্রাইমারি থেকে ঝরে পড়ার পর এলিজাবেথ ওয়ারেন বার্নি স্যান্ডার্সকে সমর্থন করতে এগিয়ে আসেননি। বার্নি সমর্থকদের মতে, তখন এলিজাবেথ ওয়ারেনের প্রকাশ্য সমর্থন পাওয়া গেলে অতি উদারনৈতিক পক্ষের বার্নি স্যান্ডার্সকেই প্রেসিডেন্ট পদে দেখার সম্ভাবনা উজ্জ্বল ছিল।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এ নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু হয়েছে। সবার দৃষ্টি রিপাবলিকান দলের দিকে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ঘোষণা না দিলেও নিজে প্রার্থী হিসেবে থাকার সম্ভাবনা ঝুলিয়ে রেখেছেন।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও বলেছেন, তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী থাকছেন।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন কোনো কারণে প্রার্থী না হলে বা প্রার্থী হওয়ার জন্য অক্ষমতা প্রকাশ করলে ডেমোক্রেটিক দলের মধ্যে প্রার্থিতার প্রতিযোগিতা হবে। সে ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের নাম এখনই দলের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।