
সন্দ্বীপ সোসাইটি ইউএসএর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচন কমিশন ১৪ অক্টোবর রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন সংগ্রহ করা যাবে ১৯ ও ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। ২২ ও ২৩ অক্টোবর একই সময়ে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হবে। ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রার্থিতা বাছাই ও চূড়ান্ত করা হবে পরদিন ২৬ অক্টোবর একই সময়ের মধ্যে।
তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি চলছে শিবিরে শিবিরে। আপাতত দুটি প্যানেল এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সন্দ্বীপ সোসাইটির বর্তমান সভাপতি আব্দুল হান্নান পান্না আবারও প্রার্থী হচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মাঠে নেমেছেন ব্রুকলিনের পুরোনো সংগঠন ‘গাছুয়া প্রবাসী দান তহবিল সংস্থা’র দুবারের সভাপতি নুরুল আমিন। সভাপতি প্রার্থী দুজনই একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। পেশায় তাঁরা নির্মাণ ব্যবসায়ী। এই দুজনের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাওলানা আবুল কালাম নিজের প্রার্থিতার কথা ঘোষণা করেছেন।
আবদুল হান্নান পান্না ও নুরুল আমিন উভয়েই তাঁদের প্যানেল চূড়ান্ত করার পথে রয়েছেন। পান্না ও নুরুল আমিনের সঙ্গে তাঁদের প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কারা থাকছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। ১৬ অক্টোবর রাতে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে কথা হয় এ দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর সঙ্গে। দুজনই চার্চ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউতে নির্বাচনী অফিস নিয়েছেন।
চার বছর টানা সাধারণ সম্পাদক ও দু বছর সভাপতির দায়িত্ব পালনের পরও কেন নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা—এমন প্রশ্নের উত্তরে আবদুল হান্নান পান্না বলেন, ‘এখনো কমিউনিটির জন্য অনেক কিছু করার বাকি। ২০১৩ সালে আমরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, সংগঠনের জন্য একটি বাড়ি করব। সেটা করেছি। আমাদের প্রবাসের সংগঠনগুলোর বেশির ভাগের প্রতিষ্ঠা মরদেহ সৎকারের উদ্দেশ্যে। আমরাও একই কাজকে গুরুত্ব দিয়েছি। এখন এই মরদেহ সৎকারে একটা টেকসই পদ্ধতি দাঁড়িয়ে গেছে। এ কারণে এবার আমার নজর অন্যদিকেও। আমি চাই আমাদের পরের প্রজন্ম, যাদের জন্ম এখানে, তারা এ কমিউনিটির নানা কাজে নিয়োজিত হোক। তাদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কমানো দরকার। আমার লক্ষ্য হবে মূলধারার সঙ্গে আমাদের অভিবাসী প্রজন্মের সেতুবন্ধ তৈরি করা। এর পাশাপাশি আমাদের মাতৃভূমি সন্দ্বীপের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে আমার। আমরা এমন কিছু করতে চাই, যাতে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।’
সভাপতি পদের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী নুরুল আমিনের কাছে প্রশ্ন ছিল তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে। জবাবে তিনি বললেন, ‘সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে চাই। সবার অংশগ্রহণে একটি গতিশীল সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমেরিকায় নতুন যারা আসেন, তারা যেন এখানকার আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করব। এত বড় একটি সংগঠনের কাজ শুধু মরদেহ সৎকারে সীমাবদ্ধ না রেখে অভিবাসীদের কল্যাণেও বিস্তৃত করব।’
নুরুল আমিন বলেন, ‘আমরা আমাদের অন্তরে যে সন্দ্বীপকে ধারণ করি, আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে সেটি ধূসর হয়ে গেছে। এ অবস্থা দূর করতে কাজ করতে চাই। নতুন প্রজন্মকে সন্দ্বীপের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এমন কিছু কাজ করতে চাই, যাতে সন্দ্বীপবাসী সব সময় মনে রাখে।’
২৬ অক্টোবর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার ২২ দিন পর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই সময় প্রার্থীদের প্রচারের জন্য যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। বিপরীতে অনেকে বলছেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হলে সময় কোনো সমস্যা নয়। গত নির্বাচনে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কেউই প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় আর ভোট হয়নি।
এবারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুচ ছাপা মনে করেন, ভোট হচ্ছে উৎসব। সামাজিক সংগঠনে উৎসব আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ হচ্ছে আসল কথা। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সময়টা মাথায় রাখতে হয়েছে। কিছুদিন পর সবার দেশে যাওয়ার উৎসব শুরু হবে। আমরা চেয়েছি এর আগে ভোট যেন শেষ হয়ে যায়। সবাই যেন ভোট দিতে পারেন।