যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় ছয় মাসে রেকর্ড মৃত্যু

বন্দুক
প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৮টি নির্বিচার বন্দুক হামলা হয়েছে। হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১৪০ জনের। ২০০৬ সালের পর গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বন্দুক হামলা হয়েছে এ বছর।

বন্দুক হামলার লাগাম টানার চেষ্টা চালাচ্ছেন মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা। এরপরও প্রকাশ্য দিবালোকে, বাড়িতে ঢুকে, বড় ও ছোট শহরে নির্বিচারে বন্দুক হামলায় মৃত্যুর মিছিল থামছেই না।

বোস্টনের নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া বড় সহিংসতার হিসাব রাখে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি ও সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডে। তাদের সংজ্ঞায় ঘাতক ছাড়া চার বা এর বেশি মানুষ নিহত হলে, তা নির্বিচার বন্দুক হামলা বা মাস শুটিং।

যুক্তরাষ্ট্রে গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় প্রতি সপ্তাহে কোথাও না কোথাও বন্দুক হামলা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নাশভিল শহরে একটি বেসরকারি স্কুলে বন্দুক হামলা হয়। স্কুলটির সাবেক এক শিক্ষার্থীর গুলিতে তিন শিশুসহ ছয়জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

বন্দুক হামলার সময় স্কুলে ছিলেন ব্রেন্ট লেদারউডের তিন সন্তান। ছয় মাসে বন্দুক হামলার রেকর্ড হওয়া নিয়ে লেদারউড বলেন, ‘ভয়ংকর এক মাইলফলক। আপনার পরিবার এমন একটি পরিসংখ্যানের অংশ, এটা কখনো কল্পনা করতে পারবেন না। এটা মনকে বোঝানো অনেক কঠিন।’

পাঁচ বছর ধরে নির্বিচার বন্দুক হামলার হিসাব রাখার কাজে যুক্ত নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেমস অ্যালান। তিনি বলেন, ‘আমরা এত দিন এটা বলেই অভ্যস্ত হয়েছি যে বছরে দুই থেকে তিন ডজন হামলা হয়। কিন্ত এবার ছয় মাসেই ২৮টি হামলা হয়েছে।’

বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বড় রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্রেটরা আরও কঠিন আইন করার পক্ষে। কিন্তু রিপাবলিকানরা এর বিরোধিতায় সরব। দলটির ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুযায়ী বন্দুকের মালিক হওয়া ‘প্রশ্নাতীত একটি বিষয়’।