ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি দুই হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে। এ সম্পর্কে জানা আছে এমন একাধিক সূত্র বলেছে, গতকাল বুধবার একটি আনুষ্ঠানিক ফোনকলে সব কর্মীকে যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা কমানোর খবর জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার বেলা তিনটায় ‘নিষ্ঠুর’ ওই ফোন করা হয়। তবে কারা চাকরি হারাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তবে আনুষ্ঠানিক ফোনকলে যুক্ত ছিলেন, এমন এক কর্মী বলেন, ‘আমি বলতে চাই, এটি খুবই রূঢ়। কীভাবে বা কোথায় কর্মী কমানো হবে, সে বিষয়ে তারা নির্দিষ্ট করে কিছুই জানায়নি। আর এতে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।’
ওই কর্মী আরও বলেন, ‘প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন চাকরি হারাবেন, এটি সত্যিই ভয়াবহ। এটি কিছুটা “হাঙ্গার গেমস”–এর মতো পরিস্থিতি। আমরা ফোনে যুক্ত হয়ে শুনেছি, নিজেদের চাকরি বাঁচাতে আমাদের লড়াই করতে হবে অথবা অন্য কাউকে বলি হিসেবে তুলে দিতে হবে।’
কারা চাকরি হারাতে চলেছেন, সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি জানিয়ে ওই কর্মী আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের বসদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁরাও কিছু জানেন না।’
খানিকটা আক্ষেপের সুরে ওই কর্মী আরও বলেন, ‘নতুন ডিজি (ডিরেক্টর জেনারেল) দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এমন খারাপ খবর নিয়ে আর কীই–বা বলার আছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরুতেই তাঁকে যেসব জিনিস সামলাতে হবে, তার মধ্যে এটি একটি। কর্মীরা পুরোপুরি বিক্ষুব্ধ এবং একটি সরকার, যারা তাদের প্রতি বিবিসির শীতল মনোভাব দেখে সন্তুষ্ট নয়।’
ব্রিটিশ পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টারের (বিবিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারা আগামী তিন বছরে ব্যয় ১০ শতাংশ কমানোর চেষ্টা করছেন।
প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে এটি বিবিসির সবচেয়ে বড় কর্মী কাটছাঁটের উদ্যোগ হতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে ছাঁটাই শুরু হতে যাচ্ছে, যখন সংস্থাটির দায়িত্ব নিতে চলেছেন ম্যাট ব্রিটিন। তিনি গুগলের সাবেক প্রধান। আগামী মাসে বিবিসির ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে যোগ দেবেন ম্যাট ব্রিটিন।
এর আগে যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা নন্দী বিবিসি রেডিও ফোরের একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘এই সরকার বিবিসির ওপর বিশ্বাস রাখে এবং আমরা মনে করি, এটি দেশের দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের একটি। এনএইচএস আমাদের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে, আর বিবিসি আমাদের জাতির সুস্থতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রক্ষক।’
ম্যাট ব্রিটিন দায়িত্ব নেবেন আগামী ১৮ মে। তার আগপর্যন্ত অন্তর্বর্তী ডিজির দায়িত্ব পালন করছেন রড্রি ট্যালফান ডেভিস। তিনি ফোনে সব কর্মীকে নিয়ে গতকাল হওয়া বৈঠকের নেতৃত্ব দেন।
ব্রিটিন কর্মীদের বলেন, ‘আমাদের দর্শক–শ্রোতাদের জন্য এবং অবশ্যই আপনাদের সবার জন্যও সবকিছু খুবই যত্নের সঙ্গে করতে হবে। আমি জানি, এটি কঠিন খবর, নিজেদের পরিকল্পনা তৈরি করতে আমাদের একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। আপনাদের প্রতি আমার অঙ্গীকার হলো, এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে যে চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তা কমাতে আমরা যতটা সম্ভব সবকিছুই করার চেষ্টা করব।’
কর্মী কমানোর এই উদ্যোগের আগে বিবিসি জানিয়েছিল, রাজকীয় অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো জাতীয় আয়োজনের খবর দেওয়ার জন্য গঠিত দলে কর্মীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমিয়ে একজন কর্মী ও কয়েকজন ফ্রিল্যান্সারের ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে বিবিসি বড় আকারে ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়ে বলেছিল, সংস্থাটি এখনো ‘বড় ধরনের আর্থিক চাপের’ মুখে রয়েছে।
সে সময় তারা বলেছিল, ২০২৯ সালের মধ্যে তারা মোট ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ সাশ্রয় করার আশা করছে। তবে কোন কোন সেবা এতে প্রভাবিত হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তার আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জানানো হয়েছিল, বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ১৩০টি পদ বাতিল করবে, যাতে পরবর্তী অর্থবছরে প্রায় ৬০ লাখ পাউন্ড সাশ্রয় করা যায়।