পুয়ের্তো রিকোর আগুয়াদিলার রাফায়েল হার্নান্দেজ বিমানবন্দরে অবতরণ করছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, পুয়ের্তো রিকো
পুয়ের্তো রিকোর আগুয়াদিলার রাফায়েল হার্নান্দেজ বিমানবন্দরে অবতরণ করছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, পুয়ের্তো রিকো

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস হয়েছে: ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার গোলাবারুদ এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।

গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগ্রাসন শুরুর পর শুরু হওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩০ কোটি ডলারেরও বেশি দামের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনে ক্ষয়ক্ষতি বা ধ্বংস হয়েছে। এই পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থাকা মোট ড্রোন বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করলেও এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কীভাবে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে।

গত মে মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে ড্রোন ধ্বংসের পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব মজুতের ২০ শতাংশ বলা হয়েছিল। ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদনে ধ্বংস হওয়া এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সংখ্যা তার চেয়ে কিছুটা বেশি দেখানো হয়েছে।

এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মূল্য তার সেন্সর, রাডার এবং যুদ্ধাস্ত্রের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তিন কোটি ডলার থেকে পাঁচ কোটি ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই চালকবিহীন আকাশযানটি নজরদারি, পর্যবেক্ষণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক নিখুঁত হামলার জন্য উচ্চ উচ্চতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

এটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা বহন করতে সক্ষম।

ড্রোনটি তুলনামূলকভাবে কম উচ্চতায় এবং ধীরগতিতে ওড়ে, যা এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনটিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে সক্ষম।

হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ড্রোনটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে থাকে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এই জলপথে একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ সমতুল্য নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, সেই তালিকায় এমকিউ-৯ রিপার অন্যতম।

পেন্টাগন জেনারেল অ্যাটমিক্সের তৈরি এই রিপার ড্রোনটি ধাপে ধাপে বাদ দিচ্ছে। এর বদলে আরও সস্তা সশস্ত্র নজরদারি ড্রোন বহর আনার পরিকল্পনা করছে, যা ঝাঁক বেঁধে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র তার অত্যাধুনিক দূরপাল্লার যুদ্ধাস্ত্রের মজুত নিঃশেষ করে ফেলেছে।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টিরও বেশি টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রের মজুতে ঘাটতির প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়ে।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর সময় মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের পরিচালন ব্যয় মেটাতে এবং অস্ত্রের সরবরাহ আবার পূরণ করতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত তহবিলের অনুরোধ জানিয়েছে।

৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের মারাত্মক গোলাবারুদ সংকটের বিষয়ে যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কথা বলেন। ট্রাম্প তাঁকে বলেন, এই ঘাটতিই ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসনের সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত রাখার অন্যতম কারণ।