তুরস্কের আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পকে নিয়ে উড্ডয়নের আগে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজের পাশে ক্যাটারিং ট্রাককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ৮ জুলাই, ২০২৬
তুরস্কের আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পকে নিয়ে উড্ডয়নের আগে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজের পাশে ক্যাটারিং ট্রাককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ৮ জুলাই, ২০২৬

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যে ভরসা পায়নি সিআইএ, এফ–১৬ যুদ্ধবিমানের পাহারায় গোপনে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

তুরস্কে অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ইসরায়েলের দেওয়া সেই তথ্যের ভিত্তিতেই চরম গোপনীয়তার মধ্যে এক নজিরবিহীন নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে বিকল্প সামরিক উড়োজাহাজে করে ট্রাম্পকে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এ গোয়েন্দা তথ্যের ব্যাপারে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কর্মকর্তাদের একজন জানান, এই হত্যাচেষ্টার তথ্যটি ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে সিআইএর বিশ্লেষকেরা এ গোয়েন্দা তথ্যকে খুব একটা জোরালো বা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেননি। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছেও নিজেদের এ সন্দেহের কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিল সংস্থাটি।

মূলত ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এবং মার্কিন সরকারের অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হত্যা করার ইরানি হুমকি ওয়াশিংটনের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এ উদ্বেগ বহুগুণ বেড়ে যায়।

আরেকজন কর্মকর্তা ট্রাম্পের জীবননাশের এ হুমকির প্রতিবেদন ‘ইসরায়েল-ভিত্তিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সূত্রে পাওয়া তথ্য ছিল না। ফলে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে এ তথ্যের নির্ভরযোগ্যতাকে ‘খুবই নিম্নস্তরের’ বলে বিবেচনা করা হয়েছিল।

প্রেসিডেন্টের ওপর এ আসন্ন হামলার তথ্যের সত্যতা নিয়ে খোদ মার্কিন গোয়েন্দাদের একাংশের মনে যে সন্দেহ ছিল, তা হোয়াইট হাউসের গত মাসের এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে নতুন মাত্রা যোগ করে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে জোরালো কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও কেন সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পকে এভাবে লুকিয়ে সরাতে গেল, তা নিয়ে নতুন আলোচনা বা ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে বিদায় নেওয়ার সময় ট্রাম্পের অবস্থান সম্পূর্ণ গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হোয়াইট হাউস, যা নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’।

এটি আসলে পুরোপুরি সিক্রেট সার্ভিসের ওপর নির্ভর করে। তারা যেভাবে কাজ করা পছন্দ করে, আমি শুধু সেটাই অনুসরণ করি। তারা চেয়েছিল, আমি যেন (এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো) নিরাপদ অন্য একটি উড়োজাহাজ বা ভিন্ন ফ্লাইটে ভ্রমণ করি। তাই তারা যা বলেছে, আমি ঠিক সেটাই করেছি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রথম প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন ‘৭৪৭-৮’ উড়োজাহাজে প্রেসিডেন্টকে এমন একটি সম্ভাব্য বৈরী পরিবেশ থেকে নিরাপদে বের করে আনার মতো পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে কি না—তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়েছিল। ফলে আঙ্কারায় ট্রাম্প প্রথমে তাঁর নিয়মিত উড়োজাহাজ ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ ওঠেন। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি গোপনে সেটি থেকে নেমে যান এবং বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী একটি ট্রাকের (ক্যাটারিং ট্রাক) ভেতরে লুকিয়ে ভিন্ন একটি উড়োজাহাজে গিয়ে ওঠেন। ‘এয়ারফোর্স সি-৩২এ’ নামের সেই বিশেষ উড়োজাহাজ ট্রাম্প এবং তাঁর কয়েকজন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিয়ে গোপনে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়ে যায়।

ইংল্যান্ডের মিলডেনহলে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসতে দেখা যাচ্ছে। ৮ জুলাই ২০২৬

অবশ্য গত বুধবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ওই ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য কিংবা তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মনোভাব কেমন ছিল, সে–সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া হয়নি।

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে অন্য কর্মকর্তাদের মতোই নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজেই যেমনটা বলেছেন, তিনি তাঁর জীবনে ইরানসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে অসংখ্য হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন। তবে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সময় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মূল দায়িত্বই হলো, প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করা, যা তারা সফলভাবেই সম্পন্ন করেছে।’

ট্রাম্পের জীবননাশের এ হুমকি–সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির পেছনে ইসরায়েলের ভিন্ন উদ্দেশ্য দেখেন মার্কিন গোয়েন্দাদের একাংশ। তাঁদের মতে, এই তথ্য দেওয়ার মূল লক্ষ্য প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নীতিকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করা।

এ বিষয়ে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসও বিস্তারিত তথ্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

তবে গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে সিআইএর মনে সন্দেহ থাকলেও শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এবং সিক্রেট সার্ভিস কোনো ধরনের ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছিল বলে প্রতীয়মান হয়।

মূলত ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এবং মার্কিন সরকারের অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হত্যা করার ইরানি হুমকি ওয়াশিংটনের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এ উদ্বেগ বহুগুণ বেড়ে যায়।

এর আগে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ট্রাম্প অন্তত তিনটি সুপরিচিত গুপ্তহত্যার চেষ্টা থেকে বেঁচে ফিরেছেন। তবে সেসব ঘটনার সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ইরানের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা বা সংযোগের কথা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

প্রথম মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও সিক্রেট সার্ভিস আঙ্কারায় অত্যন্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ জটিল ও সুদূরপ্রসারী গোপন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেছিল। তিনি বলেন, ‘সিক্রেট সার্ভিস প্রেসিডেন্টের (ট্রাম্প) ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে তিনবার অল্পের জন্য বড় বিপদ এড়াতে পেরেছে। তাই তারা এবার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের যা করা উচিত ছিল, ঠিক সেটাই করেছে।’

ইরানের এই হুমকির বিষয়ে ইসরায়েল যে মার্কিন সরকারের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি করেছিল, তা গত মাসে প্রথম প্রকাশ করেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনা করা নথিপত্র অনুযায়ী, আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়ার সময় সেই বিশেষ উড়োজাহাজটিকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে কঠোর নিরাপত্তা বা পাহারা দেওয়া হয়েছিল।

কাতারের কাছ থেকে পাওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান। উড়োজাহাজটি সংস্কার করার পরের ছবি

মঙ্গলবার রাতে এই গোপন অভিযানের বিষয়ে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মুখ খোলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তাঁকে অন্য একটি বিকল্প উড়োজাহাজে নিয়ে যাওয়ার এ সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে সিক্রেট সার্ভিসেরই ছিল।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটি আসলে পুরোপুরি সিক্রেট সার্ভিসের ওপর নির্ভর করে। তারা যেভাবে কাজ করা পছন্দ করে, আমি শুধু সেটাই অনুসরণ করি। তারা চেয়েছিল, আমি যেন একই রকমের নিরাপদ (এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো) অন্য একটি উড়োজাহাজ বা ভিন্ন ফ্লাইটে ভ্রমণ করি। তাই তারা যা বলেছে, আমি ঠিক সেটাই করেছি।’

ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগিতে ‘ভিন্ন উদ্দেশ্য’

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের জীবননাশের এ হুমকি–সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির পেছনে ইসরায়েলের ভিন্ন উদ্দেশ্য দেখেছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশ। তাঁদের মতে, এই তথ্য দেওয়ার মূল লক্ষ্য প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নীতিকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করা।

ইসরায়েল বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানকে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে তারা তুরস্ককেও এক বড় হুমকি মনে করে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আঙ্কারার বাড়তে থাকা সুসম্পর্ক নিয়ে বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের মধ্যকার ব্যক্তিগত বোঝাপড়া এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে বলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

ইরান যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দিতে চায়, সেই বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই; তবে আঙ্কারার পুরো ঘটনাটি আমার কাছে কিছুটা অবিশ্বাস্য ও কাল্পনিক বলেই মনে হচ্ছে।
ক্রিস ভ্যান হলেন, মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত সাবেক এক কর্মকর্তা জানান, এটি আসলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের একটি চিরচেনা কৌশলের অংশ। অনেক মার্কিন কর্মকর্তার মতেই, ইসরায়েলের এ ধরনের তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু অবহিত করা নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে নিজেদের মতো করে গড়ে তোলা।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকেও ইসরায়েলের দেওয়া এ হুমকির তথ্য এবং সিক্রেট সার্ভিসের সেই গোপন কৌশলের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছিল। তবে এত সব সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তিনি পুরোনো ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজেই চড়ার সিদ্ধান্ত নেন। অথচ ইরানি হামলার আশঙ্কা সত্যি হলে সেটিই হতে পারত তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

নিরাপত্তাসংক্রান্ত এ আলোচনার বিষয়ে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের আরেক কর্মকর্তা অবশ্য এ হুমকির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে আঙ্কারায় তুরস্কের হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত ছিলেন। ফলে এমন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে এ ধরনের হামলার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ ছিল।

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের এ নজিরবিহীন গোপন ও ছদ্মবেশী অভিযান নিয়ে আরও বেশি স্পষ্টতা ও ব্যাখ্যা দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধীদলীয় ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।

এ প্রসঙ্গে মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘ইসরায়েলের দেওয়া এই গোয়েন্দা তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল এবং তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে জানার জন্য আমি খুবই উৎসুক। ইরান যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দিতে চায়, সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই; তবে আঙ্কারার পুরো ঘটনাটি আমার কাছে কিছুটা অবিশ্বাস্য ও কাল্পনিক বলেই মনে হচ্ছে।’