
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই বিশ্বনেতাকে বেইজিংয়ে স্বাগত জানালেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এরপর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই নেতার অভ্যর্থনায় বাহ্যিক মিল থাকলেও কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে ক্রেমলিন বলছে, আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে দুই সফরের বিষয়বস্তুর দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাদের মতে, সব বিষয় সব সময় প্রকাশ্যে আসে না।
পুতিন ও ট্রাম্পের চীন সফরের তুলনামূলক চিত্র
চীনের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের অন্যতম অংশ হলো বিমানবন্দরে স্বাগত জানানো। পুতিন ও ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই আয়োজনে কিছুটা ভিন্নতা ছিল। মূলত ট্রাম্প খুব কম বেইজিং সফর করেন বলেই তাঁর ক্ষেত্রে গুরুত্ব কিছুটা বেশি ছিল।
পুতিনকে বেইজিংয়ে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর একজন প্রভাবশালী সদস্য। তাঁকে চীনের অন্যতম শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। চীনের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদায় ভাইস প্রেসিডেন্টের স্থান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরে। তবে তিনি বর্তমান পলিটব্যুরোর সদস্য নন।
ট্রাম্পের বেইজিং সফর থেকে বড় কোনো অর্জন আসেনি। বাণিজ্য কিংবা ইরান যুদ্ধ নিয়ে কোনো সমঝোতা ছাড়াই তিনি বেইজিং ছাড়েন। দুই পক্ষ কোনো যৌথ বিবৃতিও দেয়নি। অথচ সফরের পুরো সময় ট্রাম্প সি চিন পিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।
পুতিন-সি বৈঠকের পর প্রায় ১০ হাজার শব্দের এক দীর্ঘ যৌথ বিবৃতি সই হয়। এতে পারমাণবিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বন্য প্রাণী রক্ষার মতো বিষয়গুলো স্থান পায়। ২০টি ভিন্ন নথিপত্রে সই করলেও বড় কোনো বাণিজ্যিক ঘোষণা দেয়নি রাশিয়া ও চীন।
ট্রাম্পের প্রতিনিধিদলে সরকারি কর্মকর্তার চেয়ে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য ছিল বেশি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কো রুবিওসহ মাত্র তিনজন মন্ত্রী। তবে অ্যাপলের টিম কুক, টেসলার ইলন মাস্কসহ ১৮ জন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন।
রাশিয়ার ক্ষেত্রে পাঁচজন উপপ্রধানমন্ত্রী ও আটজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পুতিনের সফরসঙ্গী হয়েছেন। তাঁদের মূল মনোযোগ ছিল তেল, জ্বালানি ও ব্যাংকিং খাতের ওপর। পুতিন ও সি ছোট ও বড় পরিসরে আলাদা দুই দফা বৈঠক করেন।
পুতিনের সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী। সেখানে পুতিন সি-র সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘একটি দিন আলাদা থাকা যেন তিনটি শরতের সমান বিচ্ছেদ।’
অন্যদিকে সি প্রথমবারের মতো ট্রাম্পকে ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’-এ নিয়ে যান। ইতিহাসবিদদের মতে, এর মাধ্যমে সি ট্রাম্পকে চীনের দীর্ঘ ইতিহাসের গভীরতা ও আভিজাত্য দেখাতে চেয়েছেন।
ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজটি টেলিভিশনে সরাসরি দেখানো হয়েছিল। তবে পুতিনের ক্ষেত্রে তেমনটি করা হয়নি।
পুতিনের সফর ছিল মাত্র এক দিনের। তাই রাতে কেবল চায়ের আসরে দুই নেতা বৈঠক করেন। অন্যদিকে ট্রাম্পকে চীনের সুরক্ষিত ‘ঝংনানহাই’ গার্ডেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১ হাজার বছরের পুরোনো গাছ দেখে ট্রাম্প বিস্ময় প্রকাশ করেন।
২০১৩ সাল থেকে পুতিনের সঙ্গে সি-র ৪০ বারের বেশি সাক্ষাৎ হয়েছে। এর মধ্যে পুতিন ১৪ বার চীন সফর করেছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প চীন সফর করেছেন মাত্র দুবার। এই পরিসংখ্যানই দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা বোঝায়।