ট্রাম্পকে স্বেচ্ছায় ২৫ আগস্টের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নয়তো গ্রেপ্তার।
ট্রাম্পসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচন ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০ সালের ভোট। ওই নির্বাচনের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ তুলেছিলেন, ভোটে কারচুপি হয়েছে। তবে পরবর্তী দৃশ্যপটে দেখা গিয়েছিল, আসলে অন্য কেউ নন, নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি নিজেই। এ নিয়ে তদন্তও হয়েছে। এবার তদন্তে আবারও ট্রাম্পের নাম এল। এতে বলা হয়েছে, জর্জিয়ার ভোটে জো বাইডেনের কাছে হেরে গিয়ে ফল বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প।
গত সোমবার এ নিয়ে ৯৮ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে ট্রাম্পসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে ৪১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। জর্জিয়ার গ্র্যান্ড জুরি ট্রাম্পসহ তাঁদের বিরুদ্ধে র্যাকিটেরিং ইনফ্লুয়েন্সড অ্যান্ড করাপ্ট অর্গানাইজেশন (আরআইসিও) আইন ভঙ্গের অভিযোগ এনেছেন। ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ফ্যানি উইলিস এসব অভিযোগ এনেছেন। ট্রাম্প ছাড়াও অভিযুক্তের তালিকায় নাম রয়েছে ট্রাম্পের আমলের হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস ও তাঁর আইনিজীবী রুডি জুলিয়ানি ও জন ইস্টম্যানের।
সোমবার এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফ্যানি উইলিস। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জর্জিয়ার আইনি প্রক্রিয়া অবলম্বনের বদলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ভোটের ফল বদলে দিতে এই পথে হাঁটেন তাঁরা।
চলতি বছরে একের পর এক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হচ্ছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এ বছরে তাঁর বিরুদ্ধে চারটি আলাদা আলাদা অভিযোগ আনা হলো। সোমবারের অভিযোগ প্রসঙ্গে উইলিস বলেন, ট্রাম্প ও বাকিদের স্বেচ্ছায় ২৫ আগস্টের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নয়তো তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে। উইলিস চাইছেন, অভিযুক্ত সবাইকে একসঙ্গে হাজির করতে।
আইনে ট্রাম্প দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে ট্রাম্পের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাঁরা এই অভিযোগপত্র পুরোপুরি পর্যালোচনার করছেন। অভিযোগপত্রে ভুল রয়েছে এবং অভিযোগগুলো অসাংবিধানিক বলেও মন্তব্য করেছেন তাঁরা।
ট্রাম্পও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি যাতে আর প্রেসিডেন্ট হতে না পারেন, সেই জন্য উইলিস চক্রান্ত করছেন। এ ছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল, সেই অভিযোগ আবারও তুলেছেন ট্রাম্প।
সোমবার এই অভিযোগপত্র দেওয়ার আগের দিন আদালতের ওয়েবসাইটে ১৩ অভিযোগসংবলিত একটি নথি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে এই নথি সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ২ জানুয়ারি ট্রাম্প জর্জিয়ার শীর্ষ নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। এ সময় ট্রাম্প ওই কর্মকর্তাকে বলেন, কিছু ভোট খুঁজে বের করুন, যাতে নির্বাচনের ফল বদলে দেওয়া যায়। ট্রাম্পের ওই আহ্বানে সাড়া দেননি কর্মকর্তা।
এর ছয় দিন পর কংগ্রেস ভবন ইউএস ক্যাপটিলে ব্যাপক হামলা চালান ট্রাম্পের সমর্থকেরা। সেই দিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতি দিতে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন বসেছিল। কংগ্রেস সদস্যরা যাতে জো বাইডেনকে জয়ী ঘোষণা করতে না পারেন, এ লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছিলেন তাঁরা।
ওই অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর ভোটের আগে থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা বেশ কিছু অপরাধ করেছেন। এর মধ্যে ২০২০ সালের নির্বাচন যাচাই-বাছাইয়ে আইনপ্রণেতাদের গঠিত কমিটিতে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা, নির্বাচনী সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়েছে ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বলা হয়েছে, জর্জিয়ার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় ভোটারদের তথ্য চুরি ও ব্যালটের ছবি তুলেছেন ট্রাম্পের সমর্থকেরা। এ ছাড়া তাঁর সমর্থকেরা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হয়রানিও করেছেন।