যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার চালাতে গিয়ে সমাবেশে বক্তৃতা করেন। ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ডেটোনা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার চালাতে গিয়ে সমাবেশে বক্তৃতা করেন। ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ডেটোনা

অ্যাক্সিওসে প্রতিবেদন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারলে ইরানে বড় হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফলাফল খারাপ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের সামরিক অভিযানের অনুমোদন দেওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। গতকাল শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, তিনি (ট্রাম্প) যদি নিজেকে বিব্রত বা ক্ষমতাচ্যুত মনে করেন, তবে তিনি সাহসী কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন। এই বার্তাটিই ইরানকে দেওয়া হচ্ছে। তাদের বলা হচ্ছে, চুক্তি করার এখনই তাদের সেরা সুযোগ।

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই ধারণা নাকচ করে দিয়ে সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ইরানের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনের ফলাফলের কোনো প্রভাব থাকবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা আবার শুরু করতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা গতকাল শুক্রবার তেহরানে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় কাটিয়েছেন। তাঁরা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন। একটি কূটনৈতিক সূত্র একে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ বলে বর্ণনা করেছে। আজ শনিবারও ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তার মতে, দাবি নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি কঠোর অবস্থানের কারণে আলোচনা থমকে রয়েছে। ওয়াশিংটন চায় যেকোনো আলোচনায় ফেরার অংশ হিসেবে ইরান পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দিক। অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে তাদের নৌ অবরোধ তুলতে হবে, জব্দ করা তহবিল মুক্ত করতে হবে এবং তেল বিক্রির অনুমতি দিতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোহা ইরানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন বোমা হামলায় তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে জাতিসংঘ পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়। এর বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে মতপার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যেকোনো চুক্তির ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ইরানের নেতৃত্বকে আরও দুর্বল করার পক্ষে। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আলোচনা আবার শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই অ্যাক্সিওসের এই প্রতিবেদন সামনে এল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। জবাবে ওই অঞ্চলে ইরানও পাল্টাহামলা শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।