ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিং
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিং

পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ

বিশ্বের অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের ভাবমূর্তি এখন বেশি ইতিবাচক

বিশ্বের অনেক দেশেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০০২ সাল থেকে বিশ্ব রাজনীতির পরাশক্তিদের নিয়ে জনমত জরিপ শুরু করার পর এ প্রথম সংস্থাটি এমন ফলাফল পেল।

জরিপে দেখা গেছে, অনেক দেশে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব কমেছে।

বিশ্বনেতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং—দুজনের প্রতিই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের আস্থা কমেছে, তবে সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের চেয়ে সির প্রতি আস্থা কিছুটা বেশি।

জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে মাত্র ছয়টিতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন চীনের চেয়ে বেশি। দেশগুলো হলো—পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল। এদের বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের বেশির ভাগ মনে করেন, ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের চেয়ে এগিয়ে, তবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চীন কম হস্তক্ষেপ করে বলে মত দেন তাঁরা।

পিউ রিসার্চ সেন্টার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৬টি দেশের ৪২ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এ জরিপ পরিচালনা করেছে।

জরিপ পরিচালনাকারী গবেষকদের একজন জনাথন শুলম্যান বলেন, ২০০২ সাল থেকে এ দুই পরাশক্তিকে নিয়ে বৈশ্বিক জনমত জরিপ করছে পিউ। এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেল।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব কমার ঘটনা দেখা গেছে—২০০৮ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শেষ দিকে এবং ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে, তবে তখনো চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের সমান বা কিছুটা কম ছিল বলে বিবিসিকে জানান শুলম্যান।

এবারের জরিপে স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস ও কানাডায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।

২০০২ সাল থেকে এ দুই পরাশক্তিকে নিয়ে বৈশ্বিক জনমত জরিপ করছে পিউ। এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেল।
জনাথন শুলম্যান, জরিপ পরিচালনাকারী গবেষক

অন্যদিকে জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে মাত্র ছয়টিতে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন চীনের চেয়ে বেশি। দেশগুলো হলো—পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল। এদের বেশির ভাগ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

পৃথক আরেক বিশ্লেষণেও পিউ রিসার্চ সেন্টার দেখেছে, ২০টি দেশে সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব কমেছে। চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, জরিপে অন্তর্ভুক্ত এক-তৃতীয়াংশের বেশি দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে।

এ বছর জরিপে ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

গবেষকদের মতে, সাধারণভাবে মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব বেশি। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে চীনকে তুলনামূলক নেতিবাচকভাবে দেখা হয়, তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সিঙ্গাপুর। জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দিক থেকে শীর্ষে থাকা দেশটিতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও অনেক বেশি।

চীন সম্পর্কে সবচেয়ে ইতিবাচক ও সবচেয়ে নেতিবাচক—দুই ধরনের মনোভাবই পাওয়া গেছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। জরিপে অংশ নেওয়া পাকিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে জাপানে এ হার মাত্র ১১ শতাংশ।

সি চিন পিংয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের মানুষ। সেখানে তাঁর প্রতি আস্থার হার ৮৩ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে জাপানে, যেখানে এ হার মাত্র ৭ শতাংশ।

সি ও ট্রাম্প

জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর কতটা আস্থা রাখেন।

ফলাফলে দেখা যায়, দুই নেতার প্রতিই সামগ্রিকভাবে আস্থার মাত্রা খুব বেশি নয়। বেশির ভাগ দেশেই তাঁদের প্রতি আস্থার হার ৫০ শতাংশের নিচে। তবে জরিপে অংশ নেওয়া অনেক দেশেই ট্রাম্পের তুলনায় সি প্রতি আস্থা বেশি দেখা গেছে।

সি চিন পিংয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের মানুষ। সেখানে তাঁর প্রতি আস্থার হার ৮৩ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে জাপানে, যেখানে এ হার মাত্র ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন ফিলিপাইনের মানুষ। সেখানে তাঁর প্রতি আস্থার হার ৬৮ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে, যেখানে এ হার মাত্র ৪ শতাংশ।

জরিপে আরও দেখা গেছে, এখনো বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের নাগরিকদের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে বেশি সম্মান করে। তবে এ ব্যবধান আগের তুলনায় কমে এসেছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টার মধ্যম আয়ের কয়েকটি দেশে পরাশক্তিগুলোর পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কেও আলাদা প্রশ্ন করে। এতে দেখা যায়, মধ্যম আয়ের দেশে ৭৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ব্যাপক মাত্রায় হস্তক্ষেপ করে। একই প্রশ্নে চীনের ক্ষেত্রে মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।