টমি শেফার
টমি শেফার

বালিতে স্যুটকেস হত্যাকাণ্ড, ইন্দোনেশিয়ায় ১১ বছর সাজা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হলো খুনিকে

যুক্তরাষ্ট্রের এক দণ্ডিত নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পর্যটনদ্বীপ বালিতে নিজের প্রেমিকার মাকে হত্যার দায়ে ১১ বছর কারাদণ্ড ভোগের পর তাঁকে ফেরত পাঠানো হলো। তাঁর নাম টমি শেফার। ‘স্যুটকেস হত্যাকাণ্ড’ নামে পরিচিত মামলার মূল হোতা তিনি।

টমি শেফার ২০১৪ সালে তাঁর তৎকালীন প্রেমিকা হিদার ম্যাক এবং প্রেমিকার মা শিলা ফন ওয়াইজ-ম্যাকের সঙ্গে বালিতে অবকাশ যাপন করছিলেন। জানা গেছে, প্রায় ১৫ লাখ ডলারের একটি ট্রাস্ট ফান্ডের দখল নিতে এই যুগল মিলে শিলাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভালো আচরণের কারণে কয়েক দফায় শেফারের সাজা কমানো হয়। অবশেষে গত মঙ্গলবার সকালে বালির একটি কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ৩৩ বছর বয়সী এই যুবককে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার শিকাগোর একটি আদালতে তাঁকে হাজির করার কথা।

মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রগামী উড়োজাহাজে ওঠার কিছুক্ষণ আগে নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন শেফার। বার্তা সংস্থা এএফপিকে শেফার বলেন, ‘আমি দুঃখিত। আমি সব সময় দুঃখিত। আমি সব সময় দুঃখিত।’

শেফার বলেন, ‘আমাকে এই পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে আমার সব কাজের জন্য আমি পূর্ণ দায় নিচ্ছি। আমি আশা করি, শিলার পরিবার শান্তি পাবে।’

২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার একটি আদালত শেফারকে ১৮ বছর এবং ম্যাককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। বিচারক এই হত্যাকাণ্ডকে ‘নির্মম’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

প্রসিকিউটররা জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় ম্যাকের বয়স ছিল ১৮ বছর এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ম্যাক তাঁর মায়ের মুখ চেপে ধরেন এবং শেফার ফল রাখার শক্ত একটি পাত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন।

এরপর মরদেহটি একটি স্যুটকেসে ভরে ট্যাক্সির পেছনের বক্সে রাখা হয়। পরে ট্যাক্সিচালক পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে বালি দ্বীপের অন্য একটি হোটেলে ওই যুগলের সন্ধান মেলে।

তৎকালীন ২১ বছর বয়সী শেফার আদালতে দাবি করেন, শেলি তাঁর মেয়ের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন। তখন নিজেকে রক্ষা করতে তিনি পাল্টা আঘাত করেছিলেন।

বালির আদালত জানান, হত্যাকাণ্ডে ম্যাকের ভূমিকা তুলনামূলক কম থাকায় এবং বিচার চলাকালে সন্তান জন্ম দেওয়ায় তাঁকে স্বল্প মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছিল।

স্বল্প মেয়াদে সাজা দেওয়া ম্যাককেও নির্ধারিত সময়ের আগে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে তাঁকে ইন্দোনেশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরপরই ম্যাককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একজন মার্কিন নাগরিককে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং বিচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ম্যাক প্রথমে মার্কিন নাগরিক হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে প্রসিকিউটররা সাজা কমানোর প্রস্তাব দেওয়ার পর তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন।

গত কয়েক বছরে কারাগার থেকে ম্যাক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি সেই ঘটনা এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে নিজের তিক্ত সম্পর্কের কথা বলেছেন।