হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র। ২১ জুন ২০২৫
হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র। ২১ জুন ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের আলোচনায় অচলাবস্থা, কে বেশি ঝুঁকিতে

ইরান সংঘাতের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত সামরিক বা কূটনৈতিক জয় আসেনি। এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন, যেখানে ইরানের সঙ্গে এই অচলাবস্থা অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে। এতে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের সামনে আরও বড় সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উভয় পক্ষই ওপরে ওপরে আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছে যে নিজেরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তাদের অবস্থানও বিপরীত মেরুতে। ফলে ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে রাখলেও এই সংকট সমাধানের কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্প গত শুক্রবার তাৎক্ষণিক নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য অব্যাহত এই অচলাবস্থার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।

অমীমাংসিত সংঘাতের অর্থ হতে পারে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের চড়া মূল্য অব্যাহত থাকা। এটি জনপ্রিয়তা কমতে থাকা ট্রাম্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। আগামী নভেম্বরের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনাকেও ম্লান করে দেবে।

লক্ষ্য অর্জিত হয়নি

এ নেতিবাচক দিকগুলো একটি গভীরতর সমস্যাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সেটি হলো যুদ্ধটি ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর অনেকগুলোই অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একের পর এক হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সরকার পরিবর্তন থেকে শুরু করে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করা—যুদ্ধের প্রায়ই বদলে যাওয়া এই লক্ষ্যগুলোর অনেকগুলোই এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে নিজের আলোচকদের সফর বাতিল এবং এরপর যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার শঙ্কা আরও বেড়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীন যুদ্ধ এখন বন্ধ রয়েছে।

তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে, সংঘাত আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত থাকবে। তবে ট্রাম্পের কাছে এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হয়নি। কারণ তিনি শুরু থেকেই পরমাণু ইস্যুটির সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবিযুক্ত বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে চলছে যানবাহন। তেহরানে, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শুক্রবার কিছুটা আশার আলো দেখা দেয়, যখন ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, তেহরান পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি সংশোধিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়লেও এই খবরে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এই প্রস্তাবে ‘সন্তুষ্ট নন’, তবে ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংঘাত শেষে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ইরানের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের জন্য এক বড় ধাক্কা হবে।

ওয়াশিংটনের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লরা ব্লুমেনফেল্ড বলেন, ‘বিশ্বকে আরও অনিরাপদ করে তোলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবেই তিনি (ট্রাম্প) ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানের ‘হতাশা’ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের হাতেই ‘সব তুরুপের তাস রয়েছে এবং সেরা চুক্তিটি করার জন্য প্রয়োজনীয় সব সময়ও তাঁর আছে’।

বিশ্বকে আরও অনিরাপদ করে তোলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবেই তিনি (ট্রাম্প) ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
লরা ব্লুমেনফেল্ড, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি

যুদ্ধ কি আবার শুরু হবে

পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকায় ট্রাম্প রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি, সম্ভবত আরও কয়েক মাস নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের তেল রপ্তানি আরও কমিয়ে এনে দেশটিকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে এই অবরোধ চলতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি সামরিক পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করার পথও খোলা রেখেছেন। গত বৃহস্পতিবার অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ‘সংক্ষিপ্ত তবে শক্তিশালী’ হামলা চালানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালির একাংশ দখল করে তা পুনরায় খুলে দেওয়ার বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে।

ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা জানান, তাঁদের দেশগুলোর সরকার মনে করছে ইরানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হবে। যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে এসব দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

একজন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটি যে শিগগিরই শেষ হবে, তেমনটা আশা করা বেশ কঠিন।’

ইরান অনমনীয় অবস্থানে অটল রয়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেলবাহী ট্যাংকার অবাধে চলাচল করত। সেখানে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়ে ইরান এক নজিরবিহীন জ্বালানিসংকট সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পরেও এই অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকবে জেনে ইরান আরও সাহসী হয়ে উঠবে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জন অল্টারম্যান বলেন, ‘ইরান বুঝতে পেরেছে যে তারা দুর্বল অবস্থায় থাকলেও নিজেদের ইচ্ছেমতো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই উপলব্ধি ইরানকে যুদ্ধের আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।’

ইরান বুঝতে পেরেছে যে তারা দুর্বল অবস্থায় থাকলেও নিজেদের ইচ্ছেমতো হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই উপলব্ধি ইরানকে যুদ্ধের আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।
জন অল্টারম্যান, গবেষক, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ

ইউরেনিয়াম মজুত রয়ে গেছে

ট্রাম্প অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে না জড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করার যে মূল লক্ষ্য তিনি ঠিক করেছিলেন, সেটি অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছেন।

গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বিশাল মজুত মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে পরবর্তী সময়ে বোমা তৈরির উপযোগী উপাদানে রূপান্তর করা সম্ভব। ইরান বলছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ করার যে অধিকার তাদের রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন তার স্বীকৃতি দেয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ট্রাম্প সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছেন কিংবা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সফল হয়েছেন। এর মধ্যে ‘ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে’ তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপও রয়েছে।

লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি এবং ফিলিস্তিনের হামাসের মতো ‘প্রক্সি’ গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করতে ইরানকে বাধ্য করাও ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। তবে সেই লক্ষ্যও এখনো অর্জিত হয়নি।

ইরান ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ সংকটের বিষয়টি মাথায় রাখছে এবং হয়তো তারা ট্রাম্পের বিদায় পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, কত দিন তারা নিজেদের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকিয়ে রাখতে পারবে।

কংগ্রেসের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সংঘাত ‘চোরাবালিতে’ পরিণত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অথচ ট্রাম্প শুরুতে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই এই লড়াই শেষ হয়ে যাবে।

দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় শান্তি আলোচনার নতুন উদ্যোগ থেকে দ্রুত কোনো সমাধান আসার সম্ভাবনা কম।

ট্রাম্প বলে আসছেন, ইরানের হুমকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া তিনি অন্য কিছু মেনে নেবেন না। তবে একই সঙ্গে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সহযোগীদের অনুরোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে, ট্রাম্প যদি একতরফাভাবে জয় ঘোষণা করে পিছু হটেন, তাহলে ইরান কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান বিষয়টিকে নিজেদের কৌশলগত বিজয় হিসেবেই দেখবে। কারণ, সামরিক আক্রমণ মোকাবিলা করেও তারা টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে।

একই সঙ্গে ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কূটনীতিকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এমন এক ত্রুটিপূর্ণ চুক্তিতে সম্মত হতে পারেন, যার সুযোগ নিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত ইরান হুমকি হিসেবেই টিকে থাকবে।

দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি

আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় কিছু বিশ্লেষক ধারণা করছেন, এই যুদ্ধ হয়তো একটি ‘ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট’ বা দীর্ঘমেয়াদি স্থবির সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন হবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ট্রাম্পের পক্ষে বড় পরিসরে সেনাসংখ্যা কমিয়ে আনা হয়তো সম্ভব হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই নতুন কৌশলগত চড়া মূল্য দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপের পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল। যুদ্ধে যাওয়ার আগে ট্রাম্প তাঁদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেননি।

ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলতে নৌবাহিনী পাঠিয়ে সহায়তা না করায় ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এমনকি গত সপ্তাহে তিনি জার্মানি, স্পেন ও ইতালি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন।

ট্রাম্পকে এখন ইরানের আরও কঠোরপন্থী নেতৃত্বের মুখোমুখি হতে হবে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব বলয়ে থাকা এই নেতৃত্ব দেশটির দায়িত্ব নিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

যুদ্ধের শুরুতে নিজ শাসকদের উৎখাত করার জন্য ইরানের জনগণের প্রতি প্রেসিডেন্টের আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি।

দেশের ভেতরেও ট্রাম্প এই যুদ্ধ বন্ধের চাপে রয়েছেন। রয়টার্স/ইপসোসের জনমত জরিপ অনুযায়ী, এই যুদ্ধের কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা কমে ৩৪ শতাংশে নেমেছে, যা তাঁর মেয়াদে সর্বনিম্ন। এ ছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৮ লিটার) চার ডলার ছাড়িয়েছে। এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের দ্বিতীয় মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর দলের কংগ্রেসীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, পেট্রলের উচ্চ মূল্য কেবল একটি ‘সাময়িক বিশৃঙ্খলা’, যা যুদ্ধ পরিস্থিতি থিতিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কেটে যাবে।

অন্যদিকে ইরান ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ সংকটের বিষয়টি মাথায় রাখছে এবং হয়তো তারা ট্রাম্পের বিদায় পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, কত দিন তারা নিজেদের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকিয়ে রাখতে পারবে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো সিনা টুসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইরান ভেতর থেকে ভেঙে পড়েনি কিংবা নতি স্বীকার করেনি, বরং তারা সময়ক্ষেপণ করছে।’