
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জাভিয়ের বেসেরা। রিপাবলিকান প্রার্থী স্টিভ হিলটনকে হারিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির পরবর্তী গভর্নরের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে ১৫১ বছর পর একজন লাতিনো গভর্নর পাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়া। বেসেরাই হবেন রাজ্যটির প্রথম সরাসরি নির্বাচিত লাতিনো গভর্নর।
বেসেরা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মন্ত্রী ছিলেন। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিন দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন।
গত মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বরের) নির্বাচনে বেসেরার জয় নিশ্চিত হওয়ার পর হিলটন পরাজয় স্বীকার করেন। তবে বিভিন্ন কাউন্টিতে কিছু ব্যালট গণনা ও ফল হালনাগাদের কাজ এখনো চলছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সূচি অনুযায়ী, কাউন্টিগুলো ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রত্যয়ন করবে। অঙ্গরাজ্যের চূড়ান্ত ফল প্রত্যয়নের নির্ধারিত তারিখ ১১ ডিসেম্বর। ফলে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ফল চূড়ান্ত সরকারি ফল নয়।
পরাজয় স্বীকার করে হিলটন বলেন, ‘আমরা যে পরিবর্তনের আশা করেছিলাম, তা হয়তো বিলম্বিত হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তন আসছে।’
ক্যালিফোর্নিয়ার সর্বশেষ লাতিনো গভর্নর ছিলেন রোমুয়ালদো পাচেকো। ১৮৭৫ সালে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে তিনি গভর্নর পদে সরাসরি নির্বাচিত ছিলেন না। তৎকালীন গভর্নর নিউটন বুথ পদত্যাগ করলে লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন পাচেকো। প্রায় ১০ মাস দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
বেসেরার জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে। তাঁর মা মেক্সিকোর জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। বাবার জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ায়। শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান বেসেরা পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে চার বছর মেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অর্জন করেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও পরে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন।
পড়াশোনা শেষে আইন পেশায় যুক্ত হন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হন।
১৯৯০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বেসেরার নির্বাচনী রাজনীতিতে যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস সদস্য ছিলেন তিনি। এ সময় প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্রেটিক ককাসের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
২০১৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল হন বেসেরা। এ পদে থেকে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন। ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
স্ত্রী চিকিৎসক ক্যারোলিনা রেইয়েস ও তিন মেয়েকে নিয়ে তাঁর পরিবার। অভিবাসী পরিবারের অভিজ্ঞতা, স্বাস্থ্যসেবা ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গ্যাভিন নিউজম ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন। দুই মেয়াদের সীমার কারণে এবার আর প্রার্থী হতে পারেননি। তাঁর আগে ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গভর্নর ছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির জেরি ব্রাউন।
নিউজমের রাজনৈতিক জীবনের শুরু সান ফ্রান্সিসকোর স্থানীয় রাজনীতিতে। ২০০৩ সালে শহরটির মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র থাকাকালে ২০০৪ সালে সমলিঙ্গের দম্পতিদের বিয়ের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসেন।
পরে ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন নিউজম। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জিতে গভর্নরের দায়িত্ব নেন। তাঁর প্রশাসন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও প্রজননস্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশদূষণ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ নীতির অংশ ছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
তবে বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম বৃদ্ধি, গৃহহীন মানুষের সংকট, অপরাধ, জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। ২০২১ সালে তাঁকে পদ থেকে সরাতে রিকল ভোট হলেও তিনি টিকে যান।
নিউজমের প্রশাসন গৃহহীন মানুষের আবাসন, আশ্রয়কেন্দ্র ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অর্থ বরাদ্দ করেছে। এরপরও সংকট কাটেনি। নতুন গভর্নরকে চলমান প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা রাখার পাশাপাশি আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
১৯৫৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে জন্ম বেসেরার। শ্রমজীবী পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি ক্যালিফোর্নিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো শহরে বাড়িভাড়া, বাড়ির দাম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের খরচ সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করেছে। কাজ থাকলেও অনেক পরিবারের পক্ষে এসব ব্যয় সামলানো কঠিন।
নির্বাচনী প্রচারে বেসেরা মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী ওয়েবসাইটের পরিকল্পনায় বিমা, শিশু পরিচর্যা ও নিত্যপণ্যের খরচ কমানোর কথা রয়েছে। অন্যায্য মূল্যবৃদ্ধি এবং অযৌক্তিক হারে খরচ বাড়ানোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
আবাসনসংকট মোকাবিলায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর প্রায় ৪০ হাজার সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট নির্মাণে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে চান বেসেরা। এসব প্রকল্পে কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি রয়েছে। তাঁর পরিকল্পনায় নির্মাণের অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং নির্মাণ ব্যয় কমানোর কথাও আছে। বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিপুলসংখ্যক বাড়ি কেনার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও রেখেছেন তিনি।
গৃহহীন মানুষের সংকটও নতুন গভর্নরের জন্য বড় পরীক্ষা। এ খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। বেসেরা আবাসনের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও মাদকাসক্তির চিকিৎসা যুক্ত করার পরিকল্পনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে বেসেরার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের মন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশটির স্বাস্থ্যনীতি ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গভর্নর নির্বাচনের প্রচারেও স্বাস্থ্যসেবাকে অন্যতম প্রধান বিষয় করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিক্যাল কর্মসূচিতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও যোগ্য বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসেবা পান। অঙ্গরাজ্যের অর্থায়নে অনথিভুক্ত অভিবাসীদেরও পূর্ণাঙ্গ সেবার আওতায় আনা হয়েছিল। তবে গত ১ জানুয়ারি থেকে অভিবাসনগত অবস্থার কারণে কিছু প্রাপ্তবয়স্কের নতুন নিবন্ধন বন্ধ রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগে থেকে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিরা যোগ্যতার শর্ত পূরণ ও সময়মতো নবায়ন করলে তা ধরে রাখতে পারেন।
বেসেরা মেডিক্যালের সুবিধা রক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য কমানোর পক্ষে। তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনায় সবার জন্য একক সরকারি অর্থায়নভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার দিকে এগোনোর কথাও রয়েছে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও ফেডারেল সরকারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
অভিবাসননীতিতেও বেসেরার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসীবান্ধব আইন ও অনথিভুক্ত অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার নীতি অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন তিনি। অভিবাসন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে অঙ্গরাজ্যের আইনগত অবস্থান বজায় রাখারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অভিবাসীবান্ধব আইন ও অনথিভুক্ত অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার নীতি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বেসেরা। অভিবাসন কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে অঙ্গরাজ্যের আইনগত অবস্থানও বজায় রাখতে চান তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় ক্যালিফোর্নিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অঙ্গরাজ্যটি ২০৩৫ সালের মধ্যে নতুন যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রিতে শূন্য নির্গমন মানদণ্ডে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছিল। এ ব্যবস্থায় সীমিতসংখ্যক প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে লক্ষ্য বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিরোধ চলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের পর নতুন পেট্রলচালিত গাড়ি বিক্রি বন্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষমতার অনুমোদন কংগ্রেস বাতিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইও চলমান।
বেসেরা পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নীতি বাস্তবায়নেও গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর জ্বালানি পরিকল্পনায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের বিদ্যুৎ বিল কমানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিকে জনবিনিয়োগ হিসেবে দেখার কথাও বলেছেন তিনি।
দাবানল, বন্যা ও খরার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও আগাম প্রস্তুতিও নতুন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, পরিবেশনীতি ও সরকারি অর্থায়ন নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতপার্থক্য রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল থাকাকালে বেসেরা প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। গভর্নর হিসেবেও তাঁকে আলোচনা ও আইনি বিরোধের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
প্রায় চার কোটি জনসংখ্যার ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নরের সিদ্ধান্তের প্রভাব ব্যাপক। বাজেট পরিচালনা, আইন অনুমোদন বা ভেটো দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ ও দুর্যোগ মোকাবিলার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে।
নিউজমের আট বছরের দায়িত্ব শেষে বেসেরা এমন এক অঙ্গরাজ্যের নেতৃত্ব নিতে যাচ্ছেন, যার অর্থনীতিতে প্রযুক্তি, বিনোদন, কৃষি, উৎপাদন, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় ভূমিকা রয়েছে। এই অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি আবাসনসংকট, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার খরচও বড় উদ্বেগ।
বেসেরার জয়ে গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির ধারাবাহিকতা বজায় থাকল। ২০১১ সাল থেকে দলটির নেতারাই এ পদে রয়েছেন। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বেসেরার সামনে প্রধান পরীক্ষা হবে, দীর্ঘদিনের এসব সমস্যায় কতটা পরিবর্তন আনতে পারেন তিনি।