হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রশ্ন নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রশ্ন নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

‘অকাজের’ জাতিসংঘের বিকল্প হতে পারে ‘শান্তি পর্ষদ’: ট্রাম্প

জাতিসংঘকে একটি ‘অকাজের’ সংস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি মনে করেন ‘শান্তি পর্ষদ’ (বোর্ড অব পিস) জাতিসংঘের বিকল্প হতে পারে।

সম্প্রতি গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারক করতে বিশ্বনেতাদের নিয়ে ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এতে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে যাচ্ছেন।

গতকাল মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁর প্রস্তাবিত ‘শান্তি পর্ষদ’ জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হবে বলে তিনি মনে করেন কি না।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ ‘খুব একটা কাজের নয়’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এই সংস্থার (জাতিসংঘ) সম্ভাবনা আছে, কিন্তু কোনো যুদ্ধ মীমাংসার জন্য তাদের কাছে যাওয়ার কথা তিনি কখনো ভাবেননি।

এর আগে একই দিনে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ইউরোনিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি পর্ষদ দিয়ে ‘জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন’ করতে চাইছেন।

প্রিভোট বলেন, ঠিক কতজন নেতাকে এ সংস্থায় যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। তবে বেলজিয়ামকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি এ প্রকল্পকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে বলেন, ট্রাম্প ‘নিজের ব্যক্তিগত বোর্ড তৈরি’ করার চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্প ১৬ জানুয়ারি থেকে তাঁর ‘শান্তি পর্ষদে’ যোগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই পর্ষদে স্থায়ী সদস্য পদ পেতে ১০০ কোটি ডলার অনুদান চাওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্পের মতে, এ সংস্থার লক্ষ্য হলো ‘বৈশ্বিক সংঘাতের সমাধানে একটি সাহসী নতুন পন্থা’ তৈরি করা।

ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে এই ‘শান্তি পর্ষদ’।