যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ কোটি মানুষ এক ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর শীতকালীন ঝড়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। শুক্রবার শুরু হওয়া এই ঝড়ে দেশটির বিশাল এলাকাজুড়ে ভারী তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, রকি পর্বতমালা থেকে পূর্ব দিকে ধেয়ে আসা এই ঝড় ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ পরিস্থিতি তৈরি করছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টেক্সাস থেকে নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত বিস্তৃত এই দুর্যোগে তুষারপাত ও জীবনঘাতী বরফের স্তরে ঢেকে যেতে পারে বিশাল জনপদ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্ধারিত আট হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার’-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ৩ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয়েছে। রোববারের জন্য বাতিল করা হয়েছে আরও পাঁচ হাজার ফ্লাইট।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বরফ জমে যে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা কোনো শক্তিশালী হারিকেনের চেয়ে কম নয়।
মেরিল্যান্ডের ইউএস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টারের আবহাওয়াবিদ জ্যাকব অ্যাশারম্যান রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ঝড়।’ তীব্রতা এবং ব্যাপ্তির দিক থেকে এটিকে চলতি মৌসুমের সবচেয়ে বড় দুর্যোগ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ডাকোটা এবং মিনেসোটায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গেছে। এই কনকনে ঠান্ডায় বাইরে বের হওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
লুইজিয়ানা, মিসিসিপি এবং টেনেসি অঙ্গরাজ্যগুলোতে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে গাছের ডালপালা ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর অন্তত এক ইঞ্চি পুরু বরফের স্তর জমে থাকতে পারে।
দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ইতিমধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (ফেমা) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানির জন্য এই ঝড়েই প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারী তুষারপাত মোকাবিলায় নিউইয়র্কের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একটি শক্তিশালী ‘তুষার-যোদ্ধা’ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।